
মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
আমের ভরা মৌসুম জৈষ্ঠ্য মাসে আমের গাছ গুলোতে কাচা পাকা আম না ঝুলে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছফেদা । যা নিয়ে গাছের মালিক কিংবা সাধারন মানুষের মনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন । কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই আম নাকি সফেদা। এলাকার স্থানীয়রা জানালেন, ফলগুলো আমই। হঠাৎ সবুজ আমের গায়ে এমন ধূসর বর্ণ দেখে কেউ বুঝতেই পারছেন না।
কয়েকটি গ্রামে আমের রং পরিবর্তে সফেদার রং এবং আকারেও ছোট হওয়ায়,প্রথমে দেখলেই মনে হবে সফেদা। কয়েক বছর ওইসব গাছে আমের ভালো ফলন হলেও এ বছর এমন সফেদার রূপ ধারন করেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা কৌতুহল দেখা দিয়েছে ।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পশ্চিখাদা, সিংবাড়ি,আমড়াগাছিয়া ও রাজৈর গ্রামের অনেক বাড়ির গাছে আমের পরিবর্তে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছফেদা সদৃশ্য ফল । গ্রামের ওই সমস্ত বাড়ির আম গাছ গুলোতে ছোখ পড়তেই মনে হবে থোকায় থোকায় ছফেদা ফল ঝুলছে । সবুজ আমের পরিবর্তে ধূসর রংয়ের এই ফল দেখে অনেকেরই মধ্যে রয়েছে নানা কৌতুহল।
কিন্তু আম গাছে সফেদা ফল কি ভাবে হবে? বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে এটা একধরনের রোগ। যা প্রথমে দেখা দেয় উগান্ডায়। এটি এখন বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে । তবে এই আম খেলে স¦াস্থ্যের কোন ক্ষতির সম্ভবনা নেই । আলো বাতাস কম থাকা ও স্যাতসেতে পরিবেশের কারনে এই রোগ দেখা দিয়েছে বলে দাবী কৃষি বিভাগের।
শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম খাদা গ্রামের আম বাগান মালিক শাহজাহান আকন বলেন, ‘আমার ৭৫ বছর বয়স। জীবনে এর আগে কখনও আম গাছে সফেদার মতো ফল হতে দেখিনি। কোনো ভাবেই বোঝার উপায় নেই আমা নাকি সফেদা। বাগানের সব আম সফেদার মতো দেখতে এসব আম পোকায় ভরা।
আমড়াগাছিয়া গ্রামের গাছ মালিক মানবী রানী বলেন, এই আম গাছে ছোট থাকতে আম ছিল,ঠিকমত সবুজ ছিল কিন্তু পাকার মাস দেরে আগে কালার পাল্টে গেছে,সফেদার মত হয়ে গেছে। দুই-চার গ্রামে এই কলমের আম গাছে এই ধরনের আম হয়েছে। এই আমগুলো খাওয়া যায় না কারন ,এই আমগুলো কাটলে গোকা বের হয়। কাচা থাহনে পোক ছিল না,যেই পাকছে তখন লেদা পোকে ভরা,তাই এই আম খাওয়া যায় না।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘এটা এক ধরনের (দাদ) যা ছত্রাক জড়িত কারনে হয়ে থাকে। ছায়া যুক্ত স্থানে গাছ থাকলে এমন ছত্রাক দেখা দিতে পারে,। এই আমের গায়ে ছত্রাকের আবরণ পড়ে দেখতে সফেদা ফলের মতো হয়েছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। ছত্রাকের কারণে পোকা হলেও যে কোনো সময় ওই আম খাওয়া যাবে। এই আম খেলে স¦াস্থ্যের কোন ক্ষতির সম্ভবনা নেই। গত এক মাস ধরে চলা তাপদাহে বাতাসে আদ্রতা কমে যাওয়ার কারণে আমে ছত্রাকের কারণে এমনটা হয়েছে। যাদের গাছে এমন আম হচ্ছে তারা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে কিটনাশক স্প্রে করলে আমের এই ছত্রাক জনিত সমস্যা সমাধান হবে।
তিনি আরো বলেন, এই ছত্রাক জড়িত আম,প্রথমে আফ্রিকা মহাদেশের উগান্ডায় দেখা দেয়। এটা এখন বাংলাদেশে কিছু অঞ্চলে আম গাছে ও দেখা যাচ্ছে। #