
এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার অন্তর্গত বারইয়ারহাট পৌরসভা এখন আগের সেই বারইয়ারহাট নেই! এখন এখানে রাস্তার ওপর বসানো হচ্ছে দোকান! তাতে অঙ্গুলি নির্দেশ রয়েছে কার?
চলাচলের ব্যস্ততম: রাস্তা দখল করে নিয়ে রাস্তার ওপর দোকান বসানো হয়েছে! এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে অনেকে অনেক ভাবে লিখে ও যাচ্ছে। এবং স্থানীয় ভাবে অনেক মানুষ ও বিভিন্ন কথা বলাবলি করে যাচ্ছে।
তারা বলছে, বিগত সময়ে আওয়ামী দলীয় মেয়র ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন টাকা নিয়ে রাস্তার ওপর দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়েছে! এমন কি তার হুকুমিত বাহিনীর সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজরা রাস্তার ওপর বসানো দোকান গুলো থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে তাদের কে শেল্টার দিয়ে যেতো।
সেটা একেবারেই মিথ্যে না হলে ও কিন্তু মাঝে-মধ্যে ওই মেয়র রেজাউল করিম এর এ্যাকশন ও দেখা যেতো। মেয়র রেজাউল করিম নিজে এবং তার সাথে থাকা অন্যান্যদের কে দিয়ে রাস্তার ওপর দোকান বসানোর অপরাধে বিভিন্ন দোকান গুলোর মালামাল ও রাস্তায় ছিটিয়ে ফেলে দিতো। তবে, এর ২/৪দিন পর আবার সেই দোকান গুলো পূর্ব কায়দায় যথারীতি বসানো হওয়া দেখে অনেকের মাঝে নানাবিধ: প্রশ্নের ও উদ্রেক হতো।
আবার কেউ কেউ লিখে থাকে বা বলাবলি ও করতে থাকে যে, আওয়ামী মেয়র রেজাউল করিম গত ৫ আগষ্টের পালানোর পর (কারো কারো মতে একটি বিশেষ মহল মেয়র খোকনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে) পৌরসভার গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে মেয়র প্রার্থী হওয়া বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি'র আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজির নির্দেশানুযায়ী তার পক্ষিয়রা ওই সব দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের কে রাস্তার ওপর বসে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে! এই প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি'র আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজি তা অস্বীকার করে বলেন, আমি নিজে তো দুরের কথা আমার পক্ষের কেউ এমন কিছু করতে পারে না।
রাস্তার ওপর যে দোকান বসিয়ে ছুটিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে রাস্তায় চলাচলকৃত মানুষ কে ভোগান্তিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে এবং গাড়ি চলাচলে ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা যে হচ্ছে সেই বিষয়ে আপনার কি করনিয় কিছু-ই নেই? প্রতি উত্তরে দিদারুল আলম মিয়াজি বলেন, এটা তো আমার ব্যাক্তিগত বা রাজনৈতিক বিষয় নয়। ওই বিষয়ে দেখ ভালোর দায়িত্ব তো প্রশাসনের। প্রশাসন ইচ্ছে করলে সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন বলে ও তিনি মন্তব্য করেন।
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি'র আহবায়ক, গত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং আগামী নির্বাচনে ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি দিদারুল আলম মিয়াজি যেখানে বলেছেন- আমরা রাজনীতি করি, রাজনৈতিক কর্ম পরিচালনা আমাদের কাজ। ওই গুলো দেখাশোনার দায়িত্ব প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের। এর পর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের কি ঘুম ভাঙবে না? তারা কি তাদের ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করার তাগিদে বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারের ব্যস্ততম: রাস্তার ওপর বসানো দোকান গুলো সরিয়ে দিয়ে মানুষ চলাচলের ভোগান্তি এবং গাড়ি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দুর করে দিতে এগিয়ে আসবে না?