মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সুবিধায় নওগাঁর প্রায় ১১ হাজার কৃষকের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বড় ঋণগ্রহীতা ও ক্ষুদ্র খামারিদের মাঝে। কৃষির পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণের সুদ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
জেলায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের আওতায় এসেছেন ১১ হাজার কৃষক। এমন সংবাদে সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক সাগর হোসেন বলেন, “বাবা ২০০৫ সালে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর সেই ঋণের বোঝা আমার ওপর পড়ে। পারিবারিক সংকটে সেই ঋণ শোধ করতে পারিনি, জমির কাগজও তুলতে পারিনি। এখন মওকুফের খবর শুনে অনেক ভালো লাগছে।”
একই উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের সাত্তার মন্ডলও দীর্ঘ বছর ঋণের ঘানি টানার পর সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি। তবে জেলায় প্রায় ২৫ হাজার কৃষক রয়েছেন যারা ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় সুদের পরিমাণ আসলের চেয়ে তিন গুণ ছাড়িয়ে গেছে। সুদটুকু মাফ করলে তারা আসল পরিশোধ করে ব্যাংক মামলার দায় থেকে মুক্তি পেতে চান।
নওগাঁর মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারিরা জানান, অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়ে তারা ক্ষুদ্র ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। কৃষি ঋণের মতো এই খাতেও ঋণ মওকুফের জন্য সরকারের সু-নজর প্রত্যাশা করেন তারা।
এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) নওগাঁ জোনাল কার্যালয়ের জোনাল ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রুহুল আমিন বলেন, “১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের তথ্য এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা এলেই তাদের জামানত ফেরত দেওয়া হবে। সরকার চাইলে ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণগ্রহীতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ সংক্রান্ত তথ্যও আমরা পাঠাতে পারি।”
ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁয় ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এই টাকার বিপরীতে বর্তমানে সুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।