
গৌতম কুমার মহন্ত, স্টাফ রিপোর্টারঃ দিনদিন বাড়ছে নারী শ্রমিকের সংখ্যা। গ্রামে ও শহরে, কৃষি কাজে বা শিল্প কারখানায় সব খানেই নারী শ্রমিকের সরব উপস্থিতি দৃশ্যমান। সব স্তরেই
নারীরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কৃষিতে যে নারী শ্রমিকরা কাজ করে তাদের বেতন পুরুষ
শ্রমিকদের চেয়ে অনেক কম। পুরুষ শ্রমিক যেখানে পায় দৈনিক ৫শ' থেকে ৬শ' টাকা, সেখানে
নারী শ্রমিকদের মজুরি সর্বোচ্চ ৩শ' থেকে ৪শ' টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন কৃষি ক্ষেত্রে নারীর
অংশগ্রহণ বাড়াতে ও কৃষি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে নারীদের কৃষি ঋণসহ পুরুষের ন্যায়
সকল সুবিধা দেওয় প্রয়োজন।বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’কবির ভাষার এই বাস্তবতা সৃষ্টির শুরু থেকে রয়েছে এ পৃথিবীতে। আর কৃষি কাজের কথা বলতে গেলে দেখা যায় কৃষির সূচনা হয়েছিল নারীর হাতেই। বর্তমানেও পত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কৃষিতে প্রতিনিয়তই অবদান রেখে চলেছেন নারীরা। মাঠে চারা রোপন থেকে শুরু করে আগাছা পরিশকার,ধান কাটা-মাড়াই, ফসল পরিশকার-পরিচ্ছন্য করে রোদে শুকিয়ে কৃষকের গোলা পর্যন্ত সকল কাজেই নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির এই দেশে কৃষিকে যেমন উপেক্ষা করা যায় না ঠিক তেমনি নারীর অবদানও অস্বীকার করার উপায় নেই। নারীর এতো অবদানের পরেও কৃষিতে নেই নারীর স্বীকৃতি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফসলের প্রাক বপন-প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ফসল উত্তোলন, বীজ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণনের অনেক কাজ
নারী এককভাবে করেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে নারীর এ হিসাবের স্বীকৃতি নেই।
কৃষিকাজকে নারীর প্রাত্যহিক কাজের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। ভাবা হয়, এ কাজে
আবার মজুরি লাগবে কেন। কৃষি খাতে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ কাজই নারীরা করেন বিনা মূল্যে। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল গ্রামের আরতী রানী, প্রতিনিয়তয় কাজ করেন ফসলের মাঠে। বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় কাজ করছেন বীজতালা থেকে চারা উৎলন করে জমিতে চারা রোপনের। এখানে তিনি ৩শ’৫০ টাকা দিনমজুরি পান, যেখানে পুরুষ শ্রমিক পান ৬শ’ টাকা। আবার মৌসুম শেষে কাজ করলে তাকে পারিশ্রমিক তিনশ’ টাকা দেয়া হয়, পুরুষ
শ্রমিককে দেয়া হয় পাঁচশ’ টাকা। একই কাজের এই পারিশ্রমিকের বৈশ্যমের ব্যপাওে জমির
মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, পুরুষ মানুষ বেশি পরিশ্রম করে। একজন নারী একই সময়ে একজন পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক কম কাজ করতে পারে। তাই তাকে কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কিন্তু পূজা রানী বলেন, তার সঙ্গের পুরুষ শ্রমিকটি সারাদিনে যতক্ষানি জমিতে চারা রোপন করে সেও একই পরিমাণ জমিতে চারা রোপন করেন। আবার তিনি আরো বলেন, মৌসুম শেষে অন্যান্য কাজে পুরুষ শ্রমিক দুপুর পর্যন্ত কাজ করে আর আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করেও মজুরি কম পাই।এব্যাপারে সমাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ এর সভাপতি অ্যাডঃ ডিএম আব্দুল বারী জানান, নারীরা কাজে পিছিয়ে নেই। তবে মূল্যায়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। নারীরা শ্রমের মূল্য থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন, হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হন। সরকারের নজরদারীর পাশা-পাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই বৈষম্য দূর করতে হবে। কৃষি খাতে নারীর স্বীকৃতি ও শ্রমের ন্যায্য মুজুরী প্রদান নিশ্চিত করতে পারলে কৃষিক্ষাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ আরও বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।মহাদেবপুর উপজেলার কৃষি কর্মকতা হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আদিকাল থেকেই কৃষিতে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমানে কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। যা দিন দিন বাড়ছে। তবে কৃষি খাতে পূরুষ ন্যায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও মজুরি বৈষম্য সে কাল থেকেই চলে আসছে। যা সামাজিক সচেতনাতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দূর করা প্রয়োজন। তিনি আরোও বলেন, কৃষিতে নারীদেব অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।