এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম ::
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সরলে লবণ মাঠ নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ সহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়।
গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ ফোরকান (৩২), মোহাম্মদ মাহিম (২০), আজিজুর রহমান (৫২), নুর হোসেন (৩৮), মোহাম্মদ দেলোয়ার (৩৯), শাহজাহান (৩২), মোহাম্মদ রুবেল (৩৩), জমির উদ্দীন (৫৩) ও আবদুল করিম (৪৭) কে প্রথমে বাঁশখালী ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নের উত্তর সরল নতুন বাজার এলাকায় এই হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ঘটনাস্থল সরল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর সরল এলাকার জাফর আহমদের পুত্র দেলোয়ার হোসেন লবণ মাঠ থেকে ফেরার পথে নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছালে লবণ মাঠ নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ অনুসারীরা দেলোয়ারকে আটকে রেখে মারধর করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দেলোয়ারের পক্ষের লোকজন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে তাদের ওপর ও হামলা করা হয়। এ সময় দেলোয়ারের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয় বলে জানান আহতরা।
গুলিবিদ্ধ ও আহতরা হলেন, মাহিন (১৭), ফোরকান (৩৬), শাহাজান (৩২), শাকিল (২২), রোবেল (৩৩), রাকিব (২১), নুর হোসেন (৩৮), জমির (৫২), আজিজুর রহমান (৪৯), রোকমান (২৫) আনি (২৮), সৈয়দ নূর (৪৬), নয়ন (২০), শাকিল (২৩), শাহাব উদ্দীন (৩৪), ইউনুস (৫১), ফারবেছ (২৪), রাশেদ (২৫), হাবিব (২৬), শাকিব (২৮), আবদুল আলিম (৪৭), তৈয়ব (৫৪), আবু তালেব (৬২) ও ফরিদ (৫৩)।
আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রত: গুলিবিদ্ধ মোহাম্মদ মাহিম জানান, আমরা দেলোয়ারকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। হামলাকারীরা সকলে আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম ও আবদুল্লাহ কবির লিটনের অনুসারী।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বাঁশখালীর সরলে দীর্ঘদিন ধরে দু'টি পক্ষের মাঝে লবণ মাঠ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমরা বার বার উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে বলে জানান ওসি।