এম, এ কাশেম বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিএনপি'র সম্মানিত চেয়ারপার্সন দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়ার ছবির সাথে বিএনপি'র সাবেক এক নেতার ছবি নিয়ে তোলপাড়-বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থক সহ সাধারণ মানুষের মাঝে।মীরসরাই ছাড়িয়ে পুরো উত্তর চট্টগ্রামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক'র সুবাদে 'টক্ অব দ্যা ডিস্ট্রিক্ট এ পরিত হয়েছে! ছবি টা হলো- চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়ার হাতে ফুল'র তোড়া দিয়ে সাক্ষাত করা।
উল্লেখ্য, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান তার নিজের এলাকা মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র রাজনীতিতে একটি গ্রুপের নের্তৃত্ব দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি তার এন্ট্রি আরেকটি গ্রুপের নের্তৃত্ব দিয়ে আসছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি'র আরেক সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিন। এবং তার সাথে রয়েছেন মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র সাবেক আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক আহবায়ক আবদুল আউয়াল চৌধুরী ও সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী।
গত বেশ কিছু দিন যাবত মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র রাজনীতিতে গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব চরমাকার ধারণ করে একের পর এক সংঘর্ষ-সংঘাত চলতে থাকতে
উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে এই পর্যন্ত বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। যুবদলের একজন নিহত এবং এক যুবদল নেতার একটি পা ও কেটে ফেলতে হয়েছে। দলের অনেক নেতা-কর্মী এখনো বিভিন্ন হাসপাতাল/মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় দলের হাইকমান্ড থেকে সরেজমিন বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে কে দোষী এবং কে/কোন্ গ্রুপিয় নেতা নির্দোষী তা দেখে শুনে এসে রিপোর্ট প্রদানের নিমিত্তে একটি তদন্ত টিম পাঠানো হয় মীরসরাইতে। তদন্ত টিম'র সদস্যরা মীরসরাইতে আসলেন, কথা বললেন বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সাথে। অত:পর তারা যাওয়ার বেশ কিছু দিন পর কেন্দ্রীয় ভাবে রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও তার গ্রুপের নেতা মীরসরাই উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি'র সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজি, মীরসরাই পৌরসভা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিন এবং জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও ড বহিষ্কার হওয়া নুরুল আমিন এবং অন্যান্যরা তাদের কে বহিষ্কার করার বিষয়টি ষড়যন্ত্র মুলক হিসেবে আখ্যায়িত করে তা তারা মানেন না বলে বহিষ্কার করার পর আগে থেকে যে ভাবে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ঠিক সে ভাবে বহিষ্কার করার পর থেকে ও তারা দলের বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে যাচ্ছেন। এ দিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান গ্রুপের ক'জন নেতা-কর্মী একটি ছবি পোষ্ট করে তুমুল হৈ চৈ ফেলে দেয়। ছবিতে দেখা যায়- বিএনপি'র সম্মানিত চেয়ারপার্সন দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়া'র হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে পাশে দন্ডায়মান রয়েছে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। আর এই ছবিটি পোষ্ট করার পর থেকে তা নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে সমগ্র মীরসরাই ব্যাপী। অবশ্, তা শুধু মীরসরাই উপজেলার মধ্যে-ই সিমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে তা পুরো চট্টগ্রাম ব্যাপী। বিষয়টি যখন এক প্রকার 'হট কেক' এর মতো হয়ে পড়েছে তখন দল প্রেমি অনেককে বলতে শোনা যাচ্ছে-ছবিটির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান হয়তো বা নিজে ও জানতেন না। তার গ্রুপের অতি উৎসাহী কেউ কেউ তার দালালী করে মন খুশি করার অংশে এমন ছবি পোষ্ট করে বিতর্ক সৃষ্টি করে দিয়েছে! কেউ কেউ বলছেন- দল থেকে বহিষ্কার হওয়া কেউ দলের চেয়ারপার্সন এর সাথে সাক্ষাত করার সুযোগ পাওয়ার কথা নয়। সুতরাং, ছবি টা এডিট করে এমনটা করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন-বহিস্কৃত বলে কোনো কথা নয়। আসল কথা হলো দেশ মাতা বেগম খালেদা জিয়া শারিরীক ভাবে খুব বেশি অসুস্থ্যতআর মধ্যে রয়েছেন বিধায় কারো সাথে এই মুহূর্তে সাক্ষাত দিতে ও পারছেন না। ফলে, নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এর ওই ছবি টার সাথে বাস্তবতার মিল কতোটুকু রয়েছে তা কেবল ছবি দিয়ে যে লিখেছে সে-ই বলতে পারবে।