
এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন দিদার উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার সোনা পাহাড় এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোলঘেঁষা স্থানে রেলওয়ে ও সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে বিশাল এলাকা জুড়ে 'আরশি নগর ফিউচার পার্ক' নামে একটি বিনোদন ষ্পট চালু করেছিলো ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেখানে বিনোদন এর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিচালিত হতো বলে বিভিন্ন ভাবে কানাঘুষা চলতো। কিন্তু, অবৈধ ক্ষমতার কাছে প্রায় সবাই জিম্মি হয়ে থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস ও দেখাতে পারতো না। তার পরে ও সেখানে দু'একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করা সহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ও জানিয়ে ছিলো। কিন্তু, কার্যত: প্রশাসনিক যন্ত্র ও অচল হয়ে পড়েছিলো অবৈধ ক্ষমতার কাছে।
সূত্র মতে, উক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন দিদার মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে প্রশাসন সহ ক্যাডার-সন্ত্রাসীদের নিজের হাতের মুঠোয় রেখে চলচ্চিত্রের খল নায়ক আহমেদ শরিফ কে দিয়ে তার ওই ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান 'আরশি নগর ফিউচার পার্ক'টি উদ্বোধন করান।
গত কয়েক বছর তা সেভাবে চলে আসার পর গত পুরো 'রমজান মাস' বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারের মধ্যে স্থানে গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়কের অনেক টা জায়গা দখল করে তাতে ইফতারি বিভিন্ন আইটেম বিক্রির নামে আরশি নগর নাম দিয়ে ছুটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার ও পরে মীরসরাই উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান 'ইকোনমিক জোন এলাকায় ও আরশি নগর নাম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
কিন্তু, গত ৫ আগষ্ট তার দল আওয়ামী লীগের পতন ঘটলে অন্যান্য নেতাদের মতো তিনি ও পালিয়ে যান। সেই সুবাদে বিক্ষুব্ধ লোকজন উক্ত 'আরশি নগর ফিউচার পার্ক'টি তে হামলে পড়ে। ব্যাপক ক্ষতি সাধন এর কবল থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা।
আর এর কয়েকদিন পর জামাল উদ্দিন নামে এলাকার একটি রাজনৈতিক দলীয় নেতার পরিচয় দানকারী ব্যাক্তি নাকি তা দখলে নিয়ে নতুন ভাবে অনুরূপ ব্যবসা পরিচালনা করার উদ্যোগ নেন!
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার লোকজন ওই খবর শুনে রিতি মতো হতচকিত হয়ে যান।
কারন, হিসেবে তারা মনে করেন, পতিত আওয়ামী লীগের নেতা নামধারী নাসির উদ্দিন দিদার যদি জোর যার মুল্লুক তার মতো করে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ ভাবে ব্যবসা চালিয়ে থাকে তাহলে এখন তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। ওদের সরকার এবং ওরা বিতাড়িত হয়ে যাওয়ার পর অন্য কেউ তা দখলে নেয়া ও সমান অপরাধ। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলীয় নেতারা কি করছে? এমন প্রশ্ন মীরসরাই উপজেলার সর্ব শ্রেণী ও পেশার মানুষের।
উল্লেখ্য, প্রশাসনিক যন্ত্র যদি নিরপেক্ষ ভাবে পরিচালিত হয় তাহলে তৈরি কোনো অসাধ্য কাজ ও সাধ্যের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব।
যেমনটি দেখিয়ে প্রমাণ রেখেছিলেন মীরসরাই উপজেলা প্রশাসন। উক্ত আরশি নগর ফিউচার পার্কের বিষয়ে বিতর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তনাধীন থাকাবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (বর্তমান গ্রেপ্তার হয়ে জেল এ থাকা) এর পুত্র গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মীরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের এমপি মাহবুবুর রহমান রুহেল উক্ত আরশি নগর ফিউচার পার্কে একটা প্রোগ্রাম করা রতাবস্থায় জেলা প্রশাসক এর নির্দেশে মীরসরাই উপজেলা প্রশাসন তা ভন্ডুল করে দেয়। সে সময় তা করার জন্য তৎ সময়ে মীরসরাই উপজেলায় দায়িত্ব রত: ভূমি কমিশনার অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রোগ্রাম করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তা সত্ত্বেও প্রোগ্রাম করতে গেলে তিনি পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়ে সবাই কে সরিয়ে দেন।
অতিত সময়ের অতি আলোচিত-সমালোচিত উক্ত আরশি নগর ফিউচার পার্ক'টি অন্য কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাবে তা কেউ আশা করেন না।
সুতরাং, উক্ত আরশি নগর ফিউচার পার্ক'টি পুরোটাই গুড়িয়ে দিয়ে সরকারি জায়গা সরকারের দখলে নিয়ে সরকারি যে কোনো কিছু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নয় তো আগেকার মতো আবার ও ক্ষোভ-বিক্ষোভের দাবানল দেখা দিতে পারে সে এলাকা সহ মীরসরাই উপজেলার সর্বোত্র।