এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি'র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি'র সাবেক আহ্বায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন সহ ৩৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আমিরুল ইসলামের আদালতে এই অভিযোগ গঠন করা হয়।
এ মামলায় শামীম ও ডাঃ শাহাদাত ছাড়া ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি কর্মী শরিফুল ইসলাম, মোঃ সেলিম, মোঃ আলী, আবুল বশর, নুরুল ইসলাম, মো.ষঃ আলমগীর, রানা ভুঁইয়া, মহিউদ্দিন, আজাদুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, মোঃ ইলিয়াস, আবদুল মোতালেব, কুতুব উদ্দিন, মোঃ সালাউদ্দিন, তৌহিদুল সালাম, শাহজাহান মিয়া, মোঃ অনিক, মোঃ হাসান, শারাফাত উল্লাহ, আনিসুল হক ও আলী হোসেন সহ মোট ৩২ জন আসামি রয়েছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মোঃ ইউসুফ সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, কোতোয়ালী থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপি'র ৩৫ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন জুন(সোমবার) ধার্য ছিলো।
আদালতে ৩৫ জন আসামি মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। এ ছাড়া ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাতির আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে একজনকে অব্যাহতি দিয়ে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আদেশ দিয়েছেন।
মামলান নথি থেকে জানা যায়, বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর চট্টগ্রামের আদালতে একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। একইদিন বিকেলে নগরের কোতোয়ালী থানার লালদিঘী পাড় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে টেরিবাজার পর্যন্ত সড়কে ব্যারিকেড দেয় বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা।
এ'ছাড়া সড়কে যান চলাচলে বাধা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ৩ জুলাই পুলিশ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
তবে, দলের পক্ষে কেউ কেউ ঘটনাটি ভিন্ন রকম আখ্যা দিয়ে বলেন, অতি সম্প্রতি একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটি আকস্মিক ভাবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি'র আহবায়ক (আহবায়ক ডাঃ শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর) কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটি ( আহবায়ক রাসেল ও সদস্য সচিব নাজিম) গঠন করার দু'তিন দিনের মাথায় হঠাৎ করে আদালত থেকে তাদের বিরুদ্ধে এমন আদেশ/ নির্দেশ ষড়যন্ত্রের-ই অংশ।
প্রাসঙ্গিক ক্রমে ডাঃ শাহাদাত হোসেন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, কমিটির পদবীতে না থাকলে কি হবে দলে তো আছি।
সুতরাং, মামলা-হামলা বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আইনগত ভাবে সব কিছু অতিতে যেমনি করে মোকাবেলা করে আসছি ঠিক তেমনি ভাবে আগামীতে ও করে যাবো।