নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের পাঁচটি ডিক্রি এবং তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেও নিজের জমিতে ফিরতে পারছে না একটি অসহায় পরিবার। উল্টো প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের দাপটে বসতবাড়ি হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী, তার স্বামী ও বৃদ্ধা মা। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পবাতৈড় গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক ধান কেটে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের দাপটের কাছে আইন-আদালত যেন আজ অসহায়। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার পাননি তারা। বর্তমানে ওই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, পবাতৈড় মৌজায় ৫.১৯ শতক জমি শাহীনা আক্তারকে ২০২২ সালে হেবার ঘোষণা দলিল মূলে লিখে দেন তার বাবা শাহাদত হোসেন। এরপর থেকে তার স্বামী জাকির হোসেন ওই জমিতে চাষাবাদ ও আমবাগান করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি মামুনুর রশিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ক্যাডার বাহিনী নিয়ে এসে শাহীনার বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে মামুনুর রশিদ তার শ্বশুরকে অনেকটা ‘জিম্মি’ করে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। শুধু তাই নয়, গত শুক্রবার ও শনিবার ভুক্তভোগী পরিবারের ভোগদখলীয় জমির ধান ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে কেটে নিয়ে গেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শাহীনা আক্তার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার বড় বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন মেজো বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করে আমাদের জমিও দখলের চেষ্টা করছে মামুনুর। সে আমার বাবাকে দিয়ে মাকে তালাক দেওয়ানোর ষড়যন্ত্র করছে। পাঁচটি কোর্ট ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও আমরা আজ নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে পারছি না।’
জানা গেছে, ন্যায়বিচার পেতে শাহীনা আক্তার বাদী হয়ে মোকাম বিজ্ঞ ৩ নং আমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নওগাঁয় মামলা নং- ৩১২/২০২৬ এবং মোকাম বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, নওগাঁয় মামলা নং- ৫৫/২০২৬ দায়ের করেছেন। এছাড়া ৩ নং আমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটিসহ মোট ৩টি পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। এতগুলো আইনি পদক্ষেপের পরও মামুনুর রশিদের প্রভাবের কারণে তারা নিজ জমিতে যেতে পারছেন না বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, মামুনুরের প্রভাবে এলাকায় অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, শাহীনা আক্তারের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসহায় ওই পরিবারের দাবি, আদালতের ডিক্রি ও একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা আজ গৃহহীন। তারা দ্রুত এই প্রভাবশালী চক্রের হাত থেকে জমি উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।