জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের ইসলামপুরে রোগীকে সুস্থ করার প্রলোভন দেখিয়ে এক ভরি চার আনা স্বর্ণালঙ্কার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে ১১ দিনের তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ভণ্ড কবিরাজ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ইসলামপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মন্ডল প্রতারণার শিকার হয়ে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই প্রতারক চক্রের সদস্যরা হেলাল মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা হেলাল মন্ডলের অসুস্থ স্ত্রীকে সুস্থ করে তোলার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে এক ভরি চার আনা স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে হেলাল মন্ডল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলা নং-১৬, তারিখ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪-এ দায়ের হওয়া এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই জিল্লুর রহমান। ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এএসআই জুয়েল ও সঙ্গীয় ফোর্সকে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টানা ১১ দিন তদন্ত ও বিশ্লেষণ চালানো হয়। তদন্তে প্রতারক চক্রের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পৃথক অভিযানে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে হাসমত এবং ঢাকার সাভার এলাকা থেকে বকুল নামে দুই ভণ্ড কবিরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিল্লুর রহমান জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, অলৌকিক ক্ষমতা, তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা স্বর্ণ দ্বিগুণ করার মতো প্রলোভনে বিশ্বাস না করে সচেতন থাকার জন্য। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
ইসলামপুর থানা পুলিশের এ সফল অভিযানে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে ভণ্ড কবিরাজ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে পুলিশ।