মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চাঁন্দাশ ইউনিয়নের পাঘা গ্রামে অবস্থিত ‘পীড়পাল ওয়াকফ এস্টেট’-এর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব নতুন গঠিত কমিটির কাছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ উপস্থিত থেকে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে এস্টেটের সম্পত্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও দায়িত্বভার তুলে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাঘা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই পীড়পাল ওয়াকফ এস্টেটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা, মতবিরোধ ও সমন্বয়হীনতা চলছিল। এ পরিস্থিতি নিরসন এবং ওয়াকফ সম্পত্তিটির সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হয়।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ বলেন, “ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নতুন কমিটির কাছে পীড়পাল ওয়াকফ এস্টেটের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, নতুন কমিটি স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং সরকারি বিধিমালা মেনে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।”
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন—সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও নূরনবী দফাদার, সেক্রেটারী গোলাম মোস্তফা মন্ডল, এবং সদস্য শরীফুল ইসলাম, আব্দুল হাই, শফিকুল ইসলাম, নাছের আলী মন্ডল, খাইরুল ইসলাম, হাফিজুল হক, মানিক, আনিছার রহমান, জাহিদুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ পীড়পাল ওয়াকফ এস্টেটের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং এলাকার উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁন্দাশ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, “নতুন কমিটিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন রেজুলেশন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজ অনুমোদন করা না হয় এবং যথাযথ ভাউচার ছাড়া কোনো খরচ না করা হয়। এতে কাজের সততা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন ও নতুন কমিটির মধ্যে যে মতবিরোধ ছিল, তা নিরসন করে উভয় পক্ষের মধ্যে মিল-মহব্বত তৈরিতে তিনিও ভূমিকা রেখেছেন।
শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।