
নিজস্ব প্রতিবেদক: নকশা লংঘন করে বিল্ডিং নির্মান করার অপরাধে বিল্ডিং মালিককে আসামী করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরডিএ’র ইমারত পরিদর্শক মোঃ মফিদুর রহমান বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুরে জেলা রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট : ১ ও আমলী আদালতে ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মান আইনের ১২ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং-৫০৯সি /২০২৩ (বোয়ালিয়া)
বিল্ডিং মালিক মোঃ আবু কালাম সাহেব আলী, নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার মৃত মহিরুদ্দিনের ছেলে।
মামলার বরাত দিয়ে জানা যায়, আসামী সাহেব আলী বোয়ালিয়া থানাধিন তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকার মৌজা রামচন্দ্রপুর, জেএল নং-১৪, মৌজা আর.এস ২৮৮৬ নং দাগে ৬তলা অনুমোদিত নকশা করে ৩য় তলা ছাদ লেভেল ঢালাই করেন।
ইমারতের ভিত্তি-সহ প্রত্যেক তলার নির্মাণ পরিদর্শণ করায় প্রমানপত্র গ্রহন না করে এবং অনুমোদনের নম্বর তারিখ, তলা উল্লেখ করে নির্মান স্থানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন নাই। ফলে ইমারতের ২নং শর্ত লংঘন করেছে।
তাছাড়াও ইমারতের সামনে ৩.৪১ মিঃ উম্মুক্ত রাখার বিধান থাকলেও ১.০৬ উম্মুক্ত রেখে ০.৬ মিটার বর্ধিত করেছেন। ইমারতে পশ্চাতে ১.০০ মিঃ উম্মুক্ত রাখার বিধান থাকলেও ০৮৫ মিটার উম্মুক্ত রেখেছেন। ইমারতের পূর্বে ২.৬৫মিঃ উম্মুক্ত রাখার বিধান থাকলেও ১মিঃ উম্মক্ত রেখে ১মিটার বর্ধিত করেছেন।
পশ্চিমে ১মিঃ উম্মুক্ত রাখার বিধান থাকলেও ০.৬০মিঃ উম্মুক্ত রেখে ইমারত নির্মানের ১৬ নং শর্ত ভঙ্গ করেছে। ফলে আসামীকে গত ১১/১০/২০২২তারিখে স্মারক নং-০৪০.০০৫.০০২.০০০.১৮৯.২০২২.১৫৭৪নং স্মারকে অবৈধ নির্মান কেন অপসরন করা যাবে না।
তার জন্য আসামীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। আসামী গত ১৯/১০/২০২২তারিখে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অর্থরাইজ অফিসার বরাবর জবাব দাখিল করেন। জবাব সন্তোশজনক না হওয়ায় মামলার বাদী গত ১৪/১১/২০২২ তারিখে স্কেচম্যাপ-সহ গত ২৩/১১/২০২২ তারিখে একটি প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করেন।
১১/১০/২০২২ ও সর্বশেষ ০৬/১২/২০২২ তারিখে অবৈধ নির্মান সম্পূন্ন অপসারনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। আসামী কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক অবৈধ নির্মান অপসারন না করায় গত ১১/১০/২০২২ তারিখের নোটিশের আলোকে রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষ মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্বারক নং-২৫.৪০.০০০০.০০৫.০০২.১৮৯.২২.৪৮০ (৫)। সে মোতাবেক রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গত ০৯/০৫/২০২৩ তারিখে ক্ষমতা বলে এই মামলাটি দায়ের করেন।
এ ব্যপারে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে মামলার বাদী আরডিএ’র ইমারত পরিদর্শক মোঃ মফিদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিল্ডিং নির্মান বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারনেই মূলত মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে একাধিক স্থানীয়রা জানায়, সরকারী রাস্তা দখল করে অবৈধ বিল্ডং নির্মানে বারবার বিল্ডিং মালিককে সতর্ক করা হয়। কিন্তু করো কথায় কর্ণপাত না করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন বিল্ডিং মালিক সাহেব আলী।
তারা আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত বিল্ডিং মালিক সাহেব আলীকে আসামী করে আরডিএ কর্তৃক দায়ের করা মামলায় প্রমানিত হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তিনি হয়রানী করার লক্ষ্যে প্রতিবেশী ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। এই মামলার সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।