
এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালির সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এ নিয়ে সদর সহ পুরো জেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের গোলাগুলি ও বিকেলের সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।
তবে, সূত্র জানায়, ৩ জনের বাইরে আরো নিহত হতে পারে।
ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত: ২০ জন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- জুনান চাকমা (২২), ধনঞ্জয় চাকমা (৫২) ও রুবেল চাকমা (৩১)।
এদিকে নাশকতা রোধে খাগড়াছড়ি পৌর শহর ও জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাতে (আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টা) জেলা শহরের নারানখাইয়া, স্বনির্ভর এলাকায় ব্যাপক গুলির শব্দ শোনা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত গুলির শব্দ শুনতে পাওয়া যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
এর মধ্যে ধনঞ্জয় চাকমা দীঘিনালায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে মারা যান। অপর দু'জনকে আহত অবস্থায় রাতে খাগড়াছড়ি সদর থেকে হাসপাতালে আনা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, আহত হয়েছে ৯ জন। তাদের বেশির ভাগ-ই সদর উপজেলা থেকে রাতে এসেছেন। এর মধ্যে ৩ জন মারা যান।
নিহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে।
রিপন বাপ্পি চাকমা আরও জানান, রাতেই ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন। আহত বাকি ৯ পাহাড়িকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বলে তিনি জানান।
নিহত ৩ জনের মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এ দিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (শুক্রবার রাত ৮ ট) পুরো পার্বত্য এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে। মানুষজন নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।