
বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের চিতলমারীতে সাংবাদিক ও লেখক কপিল ঘোষের স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করা হয়েছে। জেলার চিতলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহন আলী বিশ্বাস শনিবার রাত আটটার দিকে ফোন দিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নেন। এসময় মোহনের চেলা তানজু তালুকদার ও আসলাম বিশ্বাস তাদেরকে ভিটেমাটি ছাড়াসহ জীবননাশের হুমকি দেয়। এসব অভিযোগ তুলে সাংবাদিক কপিলের স্ত্রী রবিবার (২৬ ফেব্রæয়ারি, ২০২৩) বিকেলে চিতলমারী থানায় মোহন আলী বিশ্বাসসহ পাঁচজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কপিল ঘোষ ও তার পরিবার এখন প্রাণভয়ে নির্ঘুম রাত জেগে থাকছেন। থানার ওসি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সাংবাদিক ও লেখক কপিলের স্ত্রী শিক্ষানবীশ আইনজীবি, উন্নয়নকর্মী নাহিদা ইয়াসমিন জানান, সাংবাদিক কপিল ঘোষের পৈত্রিক বসতবাড়ি, বাস্তুভিটে, পুকুরসহ অন্যান্য জায়গা নিয়ে তার বড় ভাই আশিষ ঘোষের সাথে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় শনিবার (২৬ ফেব্রæয়ারি, ২০২৩) মোহন আলী বিশ্বাস কপিল ঘোষের স্ত্রীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়ে চিতলমারী বাজারের পাশে অবস্থিত তার বাড়িতে যেতে বলেন। রাত আটটার দিকে কপিলের স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিন তার ছেলে বিজয় কাব্যকে (১৪) সাথে নিয়ে মোহন বিশ্বাসের বাড়িতে যায়। ধনাঢ্য মোহন আলী বিশ্বাস তার বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে কপিলের স্ত্রী ও সন্তানকে ডেকে নেয়। সেখানে মোহন আলী বিশ্বাস কপিলের স্ত্রীকে বলে, এই জায়গাজমি মামলায় তোমরা কোনভাবেই জিতবে না। অযথা ঝামেলা না করে বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যাও। ওই জমি অন্য মানুষেরা কিনবে। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে কপিলের স্ত্রী তাকে জানায়, আদালতের রায়ে না পেলে আমার স্বামী কপিল ঘোষ ও দেবর কমলেশ ঘোষ ওই বসতবাড়িসহ জায়গা ছেড়ে দেবে। কিন্তু আদালতে মামলা চলাকালে কোন অবস্থাতেই এই জায়গা কেনাবেচা করা যাবেনা। একথা শুনে সেখানে উপস্থিত জমি কেনাবেচার দালাল তান্জু তালুকদার, বিএনপি নেতা আনিচের ভাই আসলাম বিশ্বাস অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিসহ গালিগালাজ করে ওঠে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ও লেখক কপিল ঘোষ জানান, চিতলমারী বাজার হতে এক কিলোমিটার দুরে চিতলমারী-বাগেরহাট প্রধান সড়কের পাশে আমাদের পূর্বপুরুষের জায়গা এখন অনেক মূল্যবান। এই জায়গায় ভ‚মিদস্যুদের লোভনীয় নজর পড়েছে। তাই আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় আমাদের সেই পৈত্রিক জমি কৌশলে দখলে নিতে প্রভাবশালী ওই চক্র সক্রিয় হয়েছে। তারা আমার বড় ভাইকে তাদের সাথে নিয়ে হুমকি-ধামকি, সাজানো মামলা দিয়ে আমি, আমার স্ত্রী, ছোট ভাইসহ গোটা পরিবারকে হয়রানি করছে। প্রভাবশালী এই ভ‚মিদস্যুরা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের মতো অনেক মানুষদের ঠকাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের অভিভাবক বাগেরহাট-১ আসনের এমপি জননেতা শেখ হেলাল উদ্দীন ভাইয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই রিপোর্ট লেখাকালীন পর্যন্ত মোহন আলী বিশ্বাসের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএএইচ কামরুজ্জামান খান সাংবাদিকদের জানান, তিনি সাংবাদিক কপিলের স্ত্রী নাহিদা ইয়াসমিনের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এলাকার ভ‚মিদস্যু খ্যাত মোহন আলী বিশ্বাস ইতোপূর্বে সরকারি চাল চুরির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। রয়েছে আরো নানা অভিযোগ। তিনি ইতোপূর্বে চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। অপরদিকে, জমি কেনাবেচার দালাল তান্জু তালুকদার, আসলাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে জমি হাতিয়ে নেয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে। #