
বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
অবকাঠামো আর আসবাবপত্রের অভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে বাগেরহাটের কাঠুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীনতম বিদ্যালয়টি সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের কাঠুয়া গ্রামে অবস্থিত । ২০১৮ সালের ২৪ জুন এলজিইডির মাধ্যমে দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হয় । চারবছর ৭ মাস পরেও ৮৬ লাখটাকার কাজ শেষে করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এলজিইডির দাবী ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে সম্পন্ন হচ্ছেনা বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ। শিক্ষকরা বলছে অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে শিখনকার্যক্রম।
১০২ বছর বয়সি প্রচীন তম এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলা আর অযন্তে বেড়েওঠার ৯৭ বছর বয়সে একটি ভবন পেলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে নবনির্মিত ভবনে ক্লাস করতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা । এক কক্ষ বিশিষ্ঠ টিনের ছাপড়া দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এক সাথে ক্লাস করছে। যার জন্য শিক্ষার্থী কমে গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। ২০১৮ সালের ২৪ জুন এলজিইডির মাধ্যমে ৮৬ লাখ এক হাজার ৩৮৯ টাকা ৩০ পয়সায় দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু হয়। প্রথম বর্ধিত হয় ৩০ আগষ্ট ২০২০ তারিখ ২য় বর্ধিত হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন আর ৩য় বর্ধিত হয় ২২ সালের ৫ মে। তিনবার বর্ধিত হওয়ার পরও নির্মান কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। নানান তালবাহানা করে এড়িয়ে গেছে ঠিদার প্রতিষ্ঠান।
কাঠুয়া এলাকার সংকর কুমার পাল বলেন , আমি নিজেই এই স্কুলে লেখা পড়া করেছি আগে এই বিদ্যালয়ে অনেক ছাত্র ছাত্রী ছিল । ১৮ সালে দালানের কাজ শুরুর পর থেকে ছাপড়া টিনের ঘরে ক্লাস করার কারনে ছাত্র ছাত্রী কমতে শুরু করেছে।
কাঠুয়ার আয়েজ শেখ বলেন, একই সাথে যে কয়টি বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হয়েছিল সেসব স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাস করছে। আর আমাদের কাজ শেষ হচ্ছে না । ছাপড়া টিনের ঘরে শিশুরা আসতে চায়না ফলে ছাত্র ছাত্রীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করি বৃষ্টি আসলেই টিনের ঘরে পানি উঠেযায়,গরমের সময় অতিগরম লাগে তাই আমাদের অনেক বান্ধবীরা অন্য স্কুলে চলে গেছে।
৩য় শ্রেণির হালিমা বলেন আমরা মাটিতে বসে ক্লাস করি আমাদের অনেক কষ্ট হয়। স্কুলের বিল্ডিংটির কাজ দ্রæত শেষ হলে আমরা ক্লাস করতে পারতাম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল কুমার পাল বলেন, আমার বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের কাজ ২০১৮ সালের ২৪ জুন শুরু হয়। কাজটি থেমে থেমে করা হয়। আমি ইতোমধ্যে আমি আমার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ভবনের অভাবে আমার শিখন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রী কমে গেছে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্মল কুমার কুন্ডু জানান, এই কাজটি খুলনার মেসার্স কামাল এন্টার প্রাইজ ২০১৮ সালের ২৪ জুন শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে নির্মান কাজটি সম্পন্ন করা হয়নি। ইতোমধ্যে তিনবার কাজের মেয়াদ বৃদ্বি করা হয়েছে। ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে দেখাকরে তার পরও ঠিকাদার কাজ করছেনা। আমরা উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখবো পরবর্তী করনিয় বিষয়ে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, আমরা মৌখিক ও লিখিত ভাবে এলজিইডিকে জানিয়েছি । ঠিকাদার কোন কাজ করছেনা ফলে শিক্ষন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
এবিষয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামাল এন্টার প্রাইজ এর স্বর্তাধিকারী মোঃ কামালহোসেন এর সাথে ০১৭৯০০১৬০৩৪ এই নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেন নি।#