বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে ভুক্তভুগিরা|
বুধবার(১৩মে) বেলা ১২ টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মানবন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভ’গি নারী-পুরুষসহ এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক বাসিন্দা|
মোঃ আলম, হরিরামপুর, বাঘা, রাজশাহীর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা অনুযায়ী, আঃ আলাম পিতা মৃত চাহার উদ্দীন হরিারামপুর বাঘা,রাজশাহীর জমি বাহার আলী, পিতা মৃত আমজাদ আলী, বাঘা রাজশাহীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদে মানবন্ধন|
মোঃ আলম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের জমি জোর করে দখল করার চেষ্টা চলছে| আমরা গরীব মানুষ হিসেবে ধনী প্রভাবশালীর হাত থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই|
আলাম উদ্দীন সহ তার অন্যান্য ওয়ারিশগন বলেন,৫০ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন মৃত জহুর মোল্লা| তার মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও ১ মেয়ে-ইমান আলী ও চাহার আলী ও ছকেনা ওয়ারিশ সুত্রে অংশিদার হয়| ছকেনার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ সুত্রে দুই মেয়ে জায়দা ও ও দুখিনি অংীশদার হন| আমজাদ আলী সরকার জায়দা ও ও দুখিনির অংশ কিনে নেন| আমজাদ আলী সরকারের মত্যুর পর বাবর আলী গংরা ওয়ারিশ সুত্রে প্রাপ্ত হন|
১৯৭৪ সালে আমজাদ আলী সরকার জায়দা ও ও দুখিনির অংশ কিনে নিলেও জীবিত থাকাকালিন ইমান আলী ও চাহার আলীর সাথে মৌখিক সমš^য় করে কেনা দাগে বাদ দিয়ে তার জমির পাশের আরেক দাগে ভোগ দখল করে আসছেন|
ইমান আলী ও চাহার আলীর ১১জন ওয়ারিশগনও সমš^য় করে ছেড়ে দেওয়া জমি ভোগ দখল করে আসছেন| দুই বছর আগে হঠাৎ করেই আমজাদ আলীর ছেলে বাবর আলী তার পিতার সমš^য় করে ছেড়ে দেওয়া জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন| এনিয়ে ৮বার গ্রাম্য শালিসও হয়েছে| শালিস বৈঠকের লোকজন আগের সমš^য় করা মোতাবেক ভোগ দখলের সিদ্ধান্ত দেন| এনিয়ে আদালতে মামলাও করেছেন বাবর আলী| তবে মামলা চলমান থাকলেও গত শনিবার ফের শালিস বসে| এতে আগের সমš^য় বাদ দিয়ে কেনা মোতাবেক ভোগ দখলের সিদ্ধান্ত দেন| তবে কেনা সেই সম্পত্তির চৌহুদি না থাকায় স্কয়ার ফিট হিসেবে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন| এতে বিপাকে পড়েছেন ইমান আলী ও চাহার আলীর ১১জন ওয়ারিশ|
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীরা বলেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভ’গিরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন| এছাড়াও আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওযার সম্ভাবনা রয়েছে|
গ্রামের প্রবীণ আকরাম খলিফা,আব্দুর রহমান ও আনিসুর রহমানসহ অনেকেই বলেন বহু বছর ধরেই ইমান আলী ও চাহার আলীর ওয়ারিশরাই ভোগ দখল করে আসছেন| এখন আমজাদ আলীর ছেলে বাবর আলী যেভাবে দখলে নিচ্ছেন তাতে করে আলামসহ অন্যদের ঘর ভাঙা পড়বে| তবে পেছনে নিলে উভয়কুল বজায় থাকবে| গত শনিবার শালিস বৈঠকে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি অমল খন্দকার, তার ভাই নবির খন্দকার, তুতুল খন্দকার, ইউপি সদস্য সিয়ার উদ্দিন এবং শহিদুল মাস্টারসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন| তার ভাষ্য,সবার মতামতের ভিত্তিতে শালিস হয়েছে| তবে স্কয়ার ফিট হিসেবে যেভাবে খুটি দিয়েছে,সেইভাবে দখলে নিলে দুই পাশে বসবাস করা কালামের ও মকবুলের বাড়ি ভাঙা পড়বে|
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ আলাইপুর গ্রামের বাবর আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি| বাঘা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে| অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন|