
জিল্লুর রহমান রতন, জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর :
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা এলাকায় চাঞ্চল্যকর রিথি হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার জঙ্গলদী এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে রাত সাড়ে নয়টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৪ এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার আল মামুন (৫২) উপজেলার চরপলিশা এলাকার আজিজুল হক মন্ডলের ছেলে।
জামালপুর র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার আশিক উজ্জামান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত বুধবার (২০সেপ্টেম্বর) রিথি আক্তার তার শ্বশুর বাড়িতে হত্যার শিকার হলে পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর তার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই মামলার অন্যতম আসামি আল মামুন আত্নগোপন করেন। পরে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছায়া তদন্ত শুরু করেন। এরপর কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি আভিযানিক দল বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেশণের মাধ্যমে আসামিকে চিহ্নিত করে মামলা দায়েরের ৪ দিনের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আসামীকে মেলান্দহ থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করে।
নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, চরপলিশা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে রিথি আক্তারের সঙ্গে চরপলিশা তালতলা এলাকার আল মামুনের ছেলে মাহমুদুল হাসান রাব্বির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থেকে এ বছরের মে মাসে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রিথির সাথে তার স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ী ও ননদের বনিবনা হতোনা। মাঝে মধ্যেই রিথিকে গালাগাল ও মারধোর করতো। এ কারণে রিথি বেশির ভাগ সময় তার বাবার বাড়িতেই থাকতেন। বুধবার বিকেল ৩ টার দিকে নিহত রিথি আক্তার তার বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর সাথে মোটরসাইকেল করে বৃষ্টিতে ভিজে শ্বশুর বাড়িতে আসেন। এরপর বিকেল ৫ টার দিকে ঘরের মেঝেতে রিথির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, রিথি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আল মামুনকে র্যাবের সহায়তায় আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে। #