
সোহেল রানা, যশোরঃ যশোরের শার্শায় বর্তমানে কৃষক পরিবার গুলোতে চলতি আমন মৌসুমে ধান থেকে চাউল প্রক্রিয়া করণের প্রতিটি ধাপে ব্যস্থ সময় পার করছেন। মাঠের ধান কাটা থেকে শুরু করে গোলায় তুলার কাজ শেষ পর্যায়ে। এখন কৃষকের বাড়ি বাড়ি পরিবারের সদস্যদের আগামি বোরো ধান উঠা পর্যন্ত ছয় মাসের খাবারের ব্যবস্থা ধান থেকে চাল সংগ্রহে কিষাণ-কিষাণীসহ সদস্যরা দিন রাত পরিশ্রম করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ধান থেকে চাউল প্রক্রিয়া করণে কৃষক পরিবার গুলোতে কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। বাড়িতে বাড়িতে ধান সিদ্ধ, রৌদ্রে শুকানো, শুকানো ধান রাইচ মিলে ভাঙ্গানো, ভাঙ্গানো চাউল পরিষ্কার (কুলা ও ফ্যানে ঝাড়া) সহ চাউল ব্যারেলে ভরার কাজের মহাযজ্ঞ চলছে। কৃষক পরিবার গুলোতে বয়স ভেদে সকলেই বিভিন্ন ভাবে এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। পৌষের হিমেল হাওয়ার মাঝে সিদ্ধ ধান রৌদ্রে শুকাতে গরম কালের থেকে শীতকালে সময় বেশি প্রয়োজন হয়। তাই এই মূহুর্তে কৃষক পরিবার গুলো সামান্যতম সময় ও রৌদ্র নষ্ট না করে পুরোদমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। সিদ্ধ ধান রৌদ্রযুক্ত বাসা বাড়ির উঠান, ছাদ, পরিত্যক্ত ধানের চাতাল এবং মাঠের আবাদি জমিতে নেটে শুকাতে কৃষক পরিবার গুলো বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কথা হয় উপজেলার তেবাড়িয়ার আয়েশা, ফাতেমা, সিকিমালী, মরিয়ম দরিদূর্গাপুরের আমেনা ও মান্নান, গোড়পাড়া উত্তর পাড়ার নাসির, শুকজান, হালিমা ও উজ্জ্বল সহ অনেকের সাথে। তারা জানান, আমন ধান গোছানোর কাজ শেষ হয়েছে। ধান বিক্রি ও গোলাই তোলা শেষে এখন পরিবারের সদস্যদের আগামি বোরো ধান উঠা পর্যন্ত খোরাকির ব্যবস্থায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। ধান সিদ্ধ, শুকানো, ভাঙ্গানো সহ ঝাড়া এবং ব্যারেলে ভরার কাজে রয়েছি ব্যস্ত। তারা আরও জানান, ধান থেকে চাউল প্রক্রিয়া করণের বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে ধান গরম চুলার (আকা) হাড়িতে হালকা পানি দিয়ে ভাব দিতে হয়। ভাব দেওয়া ধান পানিতে ১৬-১৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ভিজিয়ে রাখা ধান সিদ্ধ করে ভালভাবে নিয়মমত রৌদ্রে শুকায়ে রাইস মিলে ভাঙ্গালেই কাঙ্খিত চাল পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ২১ হাজার ১ শত ৪২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।