জনসেবায় সেবার বিপ্লব: শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. শফিকুল ইসলামের দৃঢ় নেতৃত্ব
"
ইকবাল হোসেন,গাজীপুর
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এসেছে প্রশংসনীয় পরিবর্তন। দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলামের নানামুখী উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা এখন আরও জনবান্ধব, কার্যকর এবং শৃঙ্খলিত।
দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা পরীক্ষামূলক যন্ত্রপাতি মেরামত ও আধুনিক যন্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে হাসপাতালের ল্যাব ও অপারেশন থিয়েটার আবার সচল হয়েছে। ফলে এখন ইসিজি, ব্লাড টেস্ট, আলট্রাসোনোগ্রাফি, স্বাভাবিক ও জটিল প্রসবসহ প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সেবার মানে নতুন মাত্রা
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীদের মধ্যে সেবার প্রতি দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীরা আগের তুলনায় এখন কম সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা স্থানীয়ভাবেই করাতে পারছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।
ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন,
> “স্বাস্থ্যসেবা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি জনগণের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমি নিজে প্রতিদিন হাসপাতালে উপস্থিত থেকে সেবা নিশ্চিত করছি।”
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলায় নজরদারি
পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে হাসপাতাল চত্বরে গঠন করা হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা টিম। তারা প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। এছাড়া দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের চিহ্নিত করে তাদের অপতৎপরতা বন্ধে নেওয়া হয়েছে কার্যকর ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের সহায়তায় এখন হাসপাতাল চত্বর অনেকটাই দালালমুক্ত, যার ফলে রোগীরা প্রতারণা বা হয়রানি ছাড়াই সেবা পাচ্ছেন।
স্থানীয়দের প্রশংসা ও সন্তুষ্টি
স্বাস্থ্যসেবার এই উন্নয়ন স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার জন্ম দিয়েছে। একাধিক রোগী ও অভিভাবক জানিয়েছেন, আগে হাসপাতালে এলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলত না, নানা অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হতো। কিন্তু এখন চিকিৎসক-নার্সদের ব্যবহার অনেক সদয় এবং রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন।
একটি দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে শ্রীপুরের এই পরিবর্তন একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানেও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়-ডা. শফিকুল ইসলাম তার বাস্তব প্রমাণ।