আনিসুর রহমান নাটোর জেলা প্রতিনিধি:
জামাইদের মাছ কেনার প্রতিযোগিতা, দই-মিষ্টি, খেলনা আর গৃহস্থালির নানা রকম পণ্য সামগ্রী কেনাবেচার মধ্য দিয়ে আনন্দ উৎসবে শেষ হলো প্রায় ৪৫ বছরের ঐতিহ্য তিনদিন ব্যাপী বিয়াশ জামাই মেলা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ স্কুল মাঠে প্রতি বছর বৈশাখের শেষ মঙ্গলবারে তিনদিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
সেই মোতাবেক এ বছর ১১ এপ্রিল সোমবার বিকাল থেকে শুরু হয় মেলা। মুল মেলা অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার দিনব্যাপী এবং বুধবার ১৩ এপ্রিল বউ মেলার মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।
সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, রুই,কাতলা,বোয়াল সহ নানা রকম ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের বড় মাছ ওঠেছে মেলায়। জামাইরা এসব মাছ কিনছেন। কে কত বড় মাছ কিনে শশুড় বাড়িতে নিয়ে যাবেন এমনই প্রতিযোগিতা দেখা যায় জামাইদের মধ্যে।
মেলায় শাহরিয়ার নামের এক জামাই জানান, শশুড় বাড়িতে এসেছি। ১৪শ টাকা কেজি দরে ১০ কেজি ওজনের একটি বোয়াল মাছ কিনেছি।
সিংড়া পৌর জামায়াতের নেতা প্রভাষক সাদরুল উলা জানান, মাছ কেনার জন্যই মুলত মেলায় আসা। ১২ কেজি ওজনের একটি ব্রিগেড মাছ কিনেছি। দাম নিলো ৩শ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৬শ টাকা। সারা বছর বড় মাছ কেনার সুযোগ থাকে না। তাই মেলাতে এসে মাছ কিনি প্রতি বছর।
মাছ ব্যবসায়ি তফিজ জানান, দুটো কারনে মেলায় এবছর মাছ বিক্রি করে লাভ করতে পারি নাই। ধানের দাম কম আর অকাল বন্যায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই মেলায় ক্রেতার চেয়ে মাছের আমদানি বেশি ছিল। দুপুর পর ক্রেতা না পেয়ে অর্ধেক দামে মাছ বিক্রি করতে হয়েছে আমাদের।
মেলার ইতিহাস সন্ধানে জানাে যায়, ১৯৮২ সালে বিয়াশ মিস্ত্রি পাড়ার শিবশংকর প্রথম কালি মাতা নামে মেলাটি শুরু করেন। প্রথম ১০ বছর বিয়াশ কালিবাড়ি বটতলায় মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী ১৯৯২ সাল থেকে বিয়াশ স্কুল মাঠে মেলার জায়গা স্থানান্তর করা হয়। এর পর থেকে এ মেলা জামাই মেলা নামে সার্বজনিন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিয়াশ সহ আশে পাশের প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতি বছর এ মেলা উৎসব পালন করে থাকে। মেলা উপলক্ষে জামাইদের দেওয়া হয় পরবি নামে উপঢৌকন। পরবির টাকা নিয়ে জামাইরা বড় মাছ, মাংস, দই মিষ্টি কিনে শশুড় বাড়িতে নিয়ে যান। এজন্যই অনেকেই এখন এ মেলাকে জামাই মেলা বলে থাকেন। বিয়াশ জামাই মেলা মুলত এ অঞ্চলের জামাই-শশুড় ও সাধারন মানুষের বার্ষিক মিলন উৎসব।
মেলার আয়োজক কমিটির সদস সচীব প্রভাষক কামরুল হাসান জানান, বিয়াশ জামাই মেলা অত্র এলাকার মানুষের প্রাণের উৎসব। এবছর আবহাওয়া ভালো ছিল। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা মেলা কমিটির পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করেছি। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ মেলা উপভোগ করেছে। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের কিছু মাঠে আকষ্মিক বন্যায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। এটা না হলে হয়তো মেলাটি আরো জমে উঠতো।