নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ভুক্তভোগী পরিবারের চাষাবাদকৃত ধান জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুনুর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বসতবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে ভুক্তভোগী শাহীনা আক্তার, তার স্বামী জাকির হোসেন ও বৃদ্ধা মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পথে পথে ঘুরছেন। উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পবাতৈড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মামুনুর রশিদের দাপটে তারা নিজ বাড়িতেও ঢুকতে পারছেন না। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার পাননি।
ভুক্তভোগী শাহীনা আক্তার জানান, ২০২২ সালে তার বাবা শাহাদত হোসেন হেবার ঘোষণা দলিল মূলে (দলিল নং- ৪৬৯৫) বিন্দারামপুর ও পবাতৈড় মৌজায় ৫.১৯ শতক জমি তাকে লিখে দেন। এরপর থেকে তার স্বামী জাকির হোসেন ওই জমিতে চাষাবাদ ও আমবাগান করে আসছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহীনার বড় বোন শামসুন্নাহারের মৃত্যুর পর তার মেজো বোন সান্তনাকে বিয়ে করেন দুলাভাই মামুনুর রশিদ। ২০১১ সাল থেকে শাহীনার স্বামী জাকির হোসেন তার শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তাদের সেবায় সন্তুষ্ট হয়েই শ্বশুর ওই জমি লিখে দিয়েছিলেন।
শাহীনা আক্তারের অভিযোগ, সম্প্রতি মামুনুর রশিদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাদের বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকেই তারা বাড়িছাড়া। বর্তমানে ওই বাড়িতে মামুনুর রশিদ তার শ্বশুরকে প্রায় জিম্মি করে বসবাস করছেন। এছাড়া গত শুক্রবার ও শনিবার তাদের ভোগদখলীয় জমির ধান মামুনুর রশিদের ভাড়াটিয়া লোকজন কেটে নিয়ে গেছে।
শাহীনা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, “আমার বড় বোন শামসুন্নাহারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মেজো বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করেছে মামুনুর। এখন সে আমার জমিও দখলের চেষ্টা করছে এবং আমার বাবাকে দিয়ে মাকে তালাক দেওয়ানোর ষড়যন্ত্র করছে।” এর আগেও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে শাহীনা আক্তারকে কু-প্রস্তাব দেওয়া ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তারা পাঁচটি কোর্ট ডিক্রি পেলেও মামুনুর রশিদের প্রভাবের কারণে তারা নিজ জমিতে যেতে পারছেন না।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, “শাহীনা আক্তারের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি মহাদেবপুরে বসবাস করছেন।