• রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাজশাহীতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন মহাদেবপুরে জমি দখল ও ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ: নিরাপত্তাহীনতায় পথে পথে ঘুরছেন ভুক্তভোগী পরিবার রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার-২ বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারে মাঠে রাসিক প্রশাসক গোদাগাড়ীতে হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারী গ্রেফতার রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাসিক কর্তৃপক্ষের রাজশাহীতে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ মহাদেবপুরে নতুন ভবনে নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে: এমপি রেজাউল ইসলাম মান্দায় বিএনপি নেতাকে টর্চার সেলে নির্যাতন:‘পলাতক’ মোহাম্মদ আলী মে দিবসের র‌্যালিতে সামনের সারিতে

ইসলামপুরে গোরস্থানের নামে জমি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দিনকাল বিডি ২৪ / ৩৫ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের ইসলামপুরে জোরপূর্বক জমি দখল করে গোরস্থানের নাম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ইসলামপুর পৌর এলাকার টংগের আগলা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী শওকত আলীর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে শওকত আলীর কন্যা মেরী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, টংগের আগলা মৌজার উত্তর পাড়া, রেললাইন সংলগ্ন ৩৬ শতাংশ জমি তারা সিএস মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বৈধ সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে আরএস ও বিএস জরিপে ভুলবশত জমিটি তাদের তিন চাচা নুর ইসলাম (চুন্নু), খাইরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর নামে রেকর্ড হয়।
তিনি জানান, পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী তার অংশ বিভিন্ন জমির সঙ্গে রেওয়াজমূল্যে তার স্ত্রীর নামে দলিল করে খাজনা খারিজ করেন। প্রায় ৮ বছর আগে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ভুল স্বীকার করে ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ তাদের নামে সংশোধনী রেজিস্ট্রি করে দেন।
এদিকে, মামলা চলাকালীন অবস্থায় অপর দুই চাচা জমি বিক্রির চেষ্টা করলে তারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আপত্তি জানান। পরে অভিযুক্তরা ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ জমি আব্দুল মজিদ ও রহমতউল্লাহদের কাছে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীরা ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আদালত তাদের নোটিশ প্রদান করেন।
মেরী আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আলমাস, রোকন, জিয়াউল হক, ওয়াজেদ আলী, রহমতউল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি এলাকাবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জমিটিকে গোরস্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এবং সেখানে একাধিক কবরও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের পক্ষে একতরফা ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রির ভিত্তিতে তারা খাজনা খারিজ করে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করেছেন। তবে রায় পাওয়ার পরও বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলে রেখে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, প্রায় দুই মাস আগে তাদের চাষ করা কলা বাগান নষ্ট করে জমিটিকে গোরস্থান হিসেবে প্রচার করা হয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জমিতে গেলে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় তারা ভূমি অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করেছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মনোয়ারা বেগম, রাশেদা বেগম, বেলাল উদ্দিন, হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, তারা শওকত আলীর চাচাদের কাছ থেকে ২৪ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে সেখানে গোরস্থান স্থাপন করেছেন। তাদের মতে, ভুক্তভোগী পরিবার ১২ শতাংশ জমির দাবিদার। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তারাও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category