মোঃ আব্দুস ছালাম আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাইয়ে রেলপথ ঘেঁষে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট। এসব দোকানপাটের কারণে ট্রেন যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ ছাড়াও যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আত্রাই উপজেলার একমাত্র বৃহৎ রেলওয়ে স্টেশন আহসানগঞ্জ স্টেশন। এই স্টেশনের প্লাটফর্ম ও প্লাটফর্ম সংলগ্ন রেলপথের পশ্চিম দিকে লাইন ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য দোকানপাট।
কোনো প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই যে যার মতো দোকান স্থাপন করায় স্টেশন এলাকাটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এই স্টেশনে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী অভিমুখী ৬ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি রয়েছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এই স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকেন। স্টেশনটির প্রাচীন ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমানে এই স্টেশনে যাত্রীসেবা একেবারেই শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে।
এদিকে এই স্টেশনে ট্রেন যাত্রীদের প্লাটফর্মে প্রবেশের জন্য এক সময় পশ্চিম এলাকা উন্মুক্ত থাকলেও বর্তমানে প্লাটফর্ম জুড়ে পশ্চিম এলাকায় বিপুল সংখ্যক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় প্রবেশ মুখ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এক সময় এদিক দিয়ে এক সারির দোকান থাকলেও বর্তমানে রেল লাইন ঘেঁষে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে কয়েক সারির দোকানপাট। এসব দোকানপাটের ফলে ট্রেন যাত্রীদের প্লাটফর্মে প্রবেশ ও ট্রেন থেকে অবতরণকারী যাত্রীদের যানবাহন পর্যন্ত পৌঁছাতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
এ ছাড়াও একেবারে রেল লাইন ঘেঁষে দোকানপাট গড়ে তোলায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল। ট্রেন যাত্রী উপজেলার সমসপাড়া গ্রামের সোহেল মাহমুদ বলেন, আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন একটি জরাজীর্ণ স্টেশন। এখানে রেল লাইন ঘেঁষে দোকানপাট গড়ে ওঠার ফলে ট্রেনে ওঠা-নামা খুবই বিপজ্জনক। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে চলাচলে এই বিপদ আরও বেশি অনুভব করতে হয়। অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব দোকান অপসারণ করে পরিচ্ছন্ন একটি প্লাটফর্ম আমরা চাই।
আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বলেন, এসব দোকান মালিকদের দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ করা হয়েছে। তারা অনেকটা গায়ের জোরেই দোকানপাট স্থাপন করেছেন। উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম বলেন, আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন থেকে জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে।
আমাদের নওগাঁ-০৬(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু এটাকে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। স্টেশনটি আধুনিকায়ন হলে এসব দোকানপাট থাকবে না। সান্তাহার রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আইডব্লিউ) মো. আব্দুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে খুব দ্রুত এগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়া হবে।