এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: বিগত ১৬-২৭ বছর সাংবাদিকতার মহান পেশায় চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে অতি কষ্ট ও চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন-রজনী পার করে আসার পর গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর দেশের প্রায় সব কিছু-ই উলোটপালট হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে অনেকের নিজ নিজ এলাকার মতো এ প্রতিবেদক ও আশায় বুক বেধে ছিলাম- আমার নিজের এলাকা উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ও অতিতের সব জঞ্জাল মুক্ত হয়ে বাস্তব পথে হেঁটে সঠিক সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচন হবে। কিন্তু না, তা হয়নি! অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- আগের থেকে যেনো আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেছে!
বিগত সময়ের সুবিধার ষোল কলা পূর্ন করে কতিপয় সাংবাদিক নামধারীরা যখন লাখোপতি-কোটিপতি বনে গেছে তখন এ প্রতিবেদক গাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচের টাকার অভাবে মীরসরাই থানা/উপজেলা প্রশাসনিক এলাকাতে যেতে পারতেন না। আর বিগত ৫ মাস আগে যখন দেশের প্রায় সব জায়গার মতো মীরসরাই উপজেলাতে ও পরিবর্তন এর সু’বাতাস বইবে সে আসায় দু’একদিন যাওয়া হলে ও তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, বলতে গেলে বলতে হবে- পুরোনো দিনের সেই অবস্থার কোনো উন্নয়ন ঘটেনি মীরসরাই উপজেলাতে! ভাবনায় ছিলো- যারা সাংবাদিকতার নামে যাচ্ছেতাই করে নিজেরা লাখোপতি-কোটিপতি বনে যাওয়ার ধান্দাবাজ সাংবাদিকতার মহান পেশাকে একেবারেই ময়লার ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে তাদের থেকে মুক্তি পাবে মীরসরাই উপজেলার সাংবাদিকতা। কিন্তু না, তা তো হলো-ই না! বরং আরো অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে!!
কতকগুলো ভৃঁইফোঁট পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ধান্দাবাজির সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে গিয়ে তা আরো বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বিএনপি’র নব্য নেতা-কর্মীর নাম ও দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা গুটি কতেক ধান্দাবাজ ব্যাক্তি বিশেষ ওই সব সাংবাদিক নামধারীদের শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে বলে গোপনীয় সূত্র থেকে জানা গেছে।
এতে ওই সব নব্য বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের লাভ হচ্ছে- ওই সব ভৃঁইফোঁট পত্রিকার তথাকথিত সাংবাদিক নামধারীরা তাদের কে খুশি করিয়ে অতিতকে ভুলিয়ে দিতে পত্রিকায় তাদের কোনো না কোনো নিউজ ধরিয়ে দিয়ে থাকে। আর এতে ওই সব বিএনপি’র নেতা-কর্মী নামধারীরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে এই মর্মে যে, পত্রিকায় তো তাদের নাম-পদবী আসতেছে! মোদ্দা কথা- কি রকম পত্রিকায় ছাতার মতো প্রকউ তাদের নাম-পদবী আসতেছে সেটা বিবেচনায় নেয়ার ক্ষমতা ও তাদের নেই।
দেশে এখন জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত রাজনৈতিক কোনো সরকার না থাকায় ধরা বাধাহীন ভাবে সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো প্রকাশ পাচ্ছে নিবন্ধিত ও অ-নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। আর ওই সব ধান্দাবাজ ব্যাক্তি বিশেষরা টাকা দিয়ে যেনতেন আকারে একটা আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তা গলায় ঝুলিয়ে নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হেনো কর্ম নেই যে তা চালিয়ে যাচ্ছে না! আর এতে করে এ উপজেলায় দায়িত্ব রত: বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা এবং দেশের নামকরা অনলাইন দৈনিক পত্রিকা গুলোর প্রকৃত/পেশাধারী সাংবাদিকরা লোক-লজ্জায় মুখ ডেকে রেখে চলার অবস্থায় পর্যবসিত হতে হচ্ছে প্রতি নিয়ত:।
তবে, ওব নামি, বে-নামি সাংবাদিক নামধারীদের দোষ দেয়ার আগে তথাকথিত বিএনপির নেতা-কর্মীর নামধারীদের দোষ দিয়ে যেতে হবে। কারণ, তারা-ই তো ওই সব সাংবাদিক নামধারীদের সুযোগ-সুবিদার আওতায় রেখে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে। আর দেশের বৃহত্তম: রাজনৈতিক দল বিএনপি’র তথাকথিত নেতা-কর্মীর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যাওয়া ব্যাক্তি বিশেষের সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিএনপি’র রাজনীতির যে আগামীর জন্য বারোটা/তেরোটা বাজিয়ে দেয়া হচ্ছে সে দিকে কোনো নেতা-কর্মীর ভ্রুক্ষেপ আছে বলে মনে হচ্ছে না।
অনেকেই মনে করেন- বিএনপি’র দায়িত্ববান ও দল নিবেদিত নের্তৃবৃন্দের উচিত- বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসনামলে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে কে, কি করেছে তা খতিয়ে দেখা। এবং যারা নীতি-নৈতিকতা বহির্ভূত কোনো কর্ম- অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিলো না তাদের কে-ই কাছে-পাশে থাকার এবং রাখার সুযোগ দেয়া যেতে পারে বাট অন্যদের কে নয়।
যদি সবাই সমান সুযোগ পায় তাহলে বিএনপি’র ওই সব নেতা-কর্মীর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যাওয়া ব্যাক্তিরা আগামী দিনে জবাবদিহিতায় আসতে হবে।