• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বাঘায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনাল সম্পন্ন, বালক বিভাগে মনিগ্রাম ও বালিকা বিভাগে জয়গুন্নেছা চ্যাম্পিয়ন, পুরস্কার দিলেন ইউএনও-অতিথিরা রাজশাহীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ রাজশাহীতে অপরাহ্নের নৃত আয়োজনে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নাটোরের সিংড়ায় স্ত্রী ও সন্তানের হাতে মাছ ব্যবসায়ি খুন নওগাঁর আত্রাইয়ে উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় মাঠের পাকা ধান, রাতে নেই কৃষকের শেরপুরে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ফুলবাড়ী আলাদীপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন।। নওগাঁর আত্রাইয়ে নবাগত ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান-এর যোগদান রানীনগরে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় রাণীনগরে ধানের বাজারে ধস: দিশেহারা কৃষক, দুষছেন বৈরী আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে

রাণীনগরে ধানের বাজারে ধস: দিশেহারা কৃষক, দুষছেন বৈরী আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে

দিনকাল বিডি ২৪ / ৪১ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

​রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

রাণীনগরে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই পুরোদমে শুরু হতেই বাজারে ধানের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি ধানের দাম প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্যের অভাব—সব মিলিয়ে কৃষকদের চোখে-মুখে এখন চরম হতাশার ছাপ।

​উপজেলার বৃহত্তম ধানের হাট ‘আবাদপুকুর’ ঘুরে দেখা গেছে,ধানের মানভেদে নতুন জিরা শাইল জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯৫০/১০৫০ টাকা মণ দরে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেও এই ধানের দাম ছিল অনেক বেশি। কৃষকদের অভিযোগ-সার, কীটনাশক ও ধান কাটার শ্রমিকের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান দামে ধান বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

​আড়তদার ও মিল মালিকরা দাম কমার পেছনে তিনটি প্রধান কারণকে দায়ী করছেন:
গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পাকা ধান জমিতে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে ভেজা ধান বাজারে আনছেন, যা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চাতাল ও মিলে ধান শুকানো বা চাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আড়তদার ও মহাজনরা ভেজা ধান কিনতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা এখনও শুরু না হওয়ায় এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে।

​শিয়ালা গ্রামের কৃষক নাঈম ইসলাম জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ২৪ মণ ফলন পেলেও বৃষ্টির কারণে ধানের রং নষ্ট হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। দুধীয়াগ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন,এবার ৪৩ বিঘা জমিতে জিরার ধান লাগিয়েছি বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দর অনেক কম।এই দরে ধান বিক্রি করলে আমাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।”

​আবাদপুকুর বাজারের মেসার্স শাহজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহাজান আলী বলেন,ভেজা ধান কৃষকরা রাখতে পারছেন না, আবার আমাদের মহাজনরাও নিতে চাচ্ছেন না। তবে আশা করছি ১৫-২০ দিন পর বাজার স্থিতিশীল হবে।ফ্রেন্ডস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ বজলুর রহমান (বুলু) জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মহাজনরা আগের তুলনায় অর্ধেক ধান কিনছেন।

​রাণীনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবাইদুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ১৯,৫০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সরকারিভাবে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১,৯৬৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চাল সংগ্রহের পরিমাণ ও অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখনও পাওয়া যায়নি।
​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোস্তাকিমা খাতুন বলেন,সুষম সার ও সঠিক পরিচর্যায় এবার বিঘা প্রতি ২৬ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী ১১ মে পর্যন্ত আবহাওয়া এমন থাকতে পারে, তাই কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category