মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: নানা অনিয়মে ভরা রাজশাহী রাণীনগর নৈশ্য উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষকদের কেউ চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ কেউ নিজেদের খোশ গল্প নিয়ে গল্পে ব্যস্ত। স্কুলটিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ আনোয়ারা খাতুন ক্লাসের চেয়ে মিটিং-কেই বেশি গুরুত্বদেন। প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করেন তিনি। তবে মিটিংয়ের বিষয়বস্তু যাই হোক স্কুলের উন্নতী সংক্লান্ত কোন অলোচনা হয় বলে মনে হয় না। এমনি অভিযোগ একাধিক স্থানীয়দের। তবে স্কুলে ছাত্র/ছাত্রী বাড়াতে হবে।
ফিল্ড ওয়ার্ক করতে হবে। নিম্ন আয়ের লোকজনের ছেলে মেয়েদের পাঠদানে উৎসাহ দিয়ে স্কুলে আনতে হবে। দিন-মুজুর ও শ্রমিক শ্রেণীর তরুণ, কিশোর, যুবকদের কিভাবে স্কুলে আনা যায় সেই বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতেও দেখা যায় না। যাহা স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। আজ থেকে প্রায় ১০বছর আগেও দলে দলে বিভিন্ন বয়সি ছেলে মেয়েরা এই নৈশ্য উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সাথে সাথে বিদায় হয়েছেন প্রধান শিক্ষক। দয়িত্ব পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তারই উদাসিনতা ও অদক্ষতার করনেই স্কুলটিতে পাঠদানে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সেই সাথে বেড়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা খাতুনের দম্ভিকতা।
সম্প্রতী স্কুলের সার্বিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক, সহকারী শিক্ষক, ও ক্রীড়া শিক্ষক ৩জন সাংবাদিকের সাথে খারাপ ব্যবহার করা-সহ মারমুখি আচারণ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, কোন প্রশ্নের উত্তর দেয়া যাবেনা। যা ইচ্ছা লিখেন। সেই সাথে তাদের দূর দূর করে খেদিয়ে দিয়েছেন। চলতি মাসের (৯ অক্টোবর-২০২৩) মুসলিম ছেলে মেয়েদের হিন্দু ধর্ম শিক্ষা ও পূজা অর্চনার শিক্ষা দিয়ে ক্লাশ করিয়েছেন এবং মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীদের স্কুল পরিদর্শকের সাথে হিন্দু বলে পরিচয় করে দিয়েছেন কাব্যতীর্থের শিক্ষক ববিতা শাহ। এ নিয়ে দৈনিক স্থানীয়, জাতীয় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
চলছে তদন্ত। এছাড়াও স্কুলটিতে একটিও হিন্দু ছাত্র/ছাত্রী নাই। মাসে মাসে সরকারী অর্থ গিলছেন তিনি। তবে হিন্দু ছাত্র/ছাত্রী স্কুলে না থাকা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নাই স্কুলের সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক মোসাঃ আনোয়ারা খাতুন ও কাব্যতীর্থের শিক্ষক ববিতা শাহ। একই ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ আকরাম হোসেন সরকার। তিনিও প্রায় ২০বছর ধরে গিলছেন সংকারী অর্থ। স্কুলটিতে এ্যাসেম্বলি হয় না, জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়না, বিগত ২০বছরে কোন প্রকার খেলাধুলা হয়নি, খেলাধুলা ও শরীর চর্চা মূলক কোর প্রকার কার্যক্রম একেবারেই নেই, ক্রীড়া শিক্ষকের ক্রীড়া সংকান্ত কোন প্রকার কার্যক্রম নেই, গত ২০বছরের মধ্যে কোন খেলোয়াড় সৃষ্টি করতে পারেন নাই, ক্রিড়া খাতে এ যাবত কোন সনদ, ক্রেস্ট, ট্রফি অর্জন হয়নি।
কোন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ নাই। সম্প্রতী ক্রীড়া শিক্ষককে স্থানীয় ও জাতীয় কোন খেলাধুলা কমিটিতে পাওয়া যায়না। বিগত সময় বেশ কিছু ক্রীড়া সামগ্রী ছিলো। কিন্তু ক্রীড়া শিক্ষকের উদাসিনতা আর অবহেলার কারনে সেই সব সামগ্রীর হদিস নাই।
মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীদের হিন্দু ধর্ম শিক্ষা দেয়া এবং পূজা অর্চনার শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ আনোয়ারা খাতুন এক বাক্যে বলেন, কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না।
ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ আকরাম হোসেন সরকার, সাংবাদিক দেখে মারমুখি আচারণ করেন।
জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিও) মোঃ নাসিরুদ্দিন জানান, আমরা ট্রেনিং নিয়ে ব্যস্ত আছি। রাণীনগর নৈশ্য উচ্চ বিদ্যালয়ের বিষয়ে আমাকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই তদন্ত শেষে উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল ম্যাডামকে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, মুসলিম ছাত্র/ছাত্রীদের হিন্দু ধর্ম শিক্ষা দেয়া এবং পূর্জা অর্চনার শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। এ বিষয়ে তদন্ত দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে কাব্যতীর্থের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া শিক্ষকের বিষয়টি আমার জানা নেই। তার বিষয়েও তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।