নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম অফিস :
চট্টগ্রাম শহরের জিইসি এলাকায় অবস্থিত সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১ মীরসরাই আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান রুহেল (সাবেক এমপি মন্ত্রী ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পুত্র) এর মালিকানাধীন চার তারকা হোটেল ‘পেনিনসুলা’ এর কক্ষ থেকে পোল্যান্ডের এক নাগরিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ৪ মার্চ (সোমবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে অবস্থিত ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ নামের ওই হোটেল থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, তার মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
হোটেলের নথিতে ওই ব্যক্তির নাম Zdzislaw michal czeryba (জিস্লাভ মিখাইল জেরিবা) এবং বয়স ৫৮ উল্লেখ রয়েছে। তিনি ঢাকার বিগ স্টার নামের একটি বায়িং হাউসে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্টগ্রামে কেনপার্ক নামের একটি গার্মেন্টস পরিদর্শনের জন্য আসেন। সে সময় জিইসি মোড়ে অবস্থিত হোটেল পেনিনসুলার ৯১৫ নম্বর কক্ষে ওঠেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শেষে হোটেলটিতে উপস্থিত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যক্তি বায়িং হাউসের হয়ে চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস পরিদর্শনের জন্য এখানে এসেছিলেন। গত রোববার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ওনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে কর্তৃপক্ষ রুমের বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খোলার পর দরজার পাশে পোল্যান্ডের ওই নাগরিককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
উপকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তার মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুরো কক্ষটি রক্তাক্ত অবস্থায় ও এলোমেলো ছিলো। তাতে আমরা প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করছি, এটা একটা হত্যাকাণ্ড হতে পারে।’ তবে পুরো বিষয়টি বলা যাবে তার ফরেনসিক, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে।
এ ছাড়া ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা জানতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক সংগ্রহ সহ নানাবিধ: আলামত উদ্ধারে সিআইডি ও পিবিআই কাজ করছে।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ওই নাগরিক চট্টগ্রামে বহুবার এসেছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরেও তিনি এখানে এসেছিলেন। এ সময় একই হোটেলটিতে ছিলেন। পরে ক্রিসমাসে ছুটিতে তিনি নিজ দেশ পোল্যান্ডে ফিরে যান। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার ফ্লাই দুবাই করে চট্টগ্রামে আসার পর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এই হোটেলে আসেন।
এই বিষয়ে হোটেল পেনিনসুলা কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে, হোটেলটির একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বায়াররা তাকে ফোনে না পেয়ে হোটেলের ফোন নম্বরের যোগাযোগ করেন। এ সময় পোল্যান্ডের ওই নাগরিকের রুমে গিয়ে একটু দেখে আসার জন্য বলা হয়। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ৯১৫ নম্বর কক্ষে গেলে ভেতর থেকে দরজা লক করা অবস্থায় পায়। এ সময় বাইরে থেকে দরজার ওপর ‘ডোন্ট ডিস্টার্ব’ সাইনবোর্ড ঝোলানো ছিলো।