• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ:দুর্ভোগে ভূমি দাতা ও গ্রহীতা

দিনকাল বিডি ২৪ / ২২২ Time View
প্রকাশঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪

সোহেল রানা,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:কমলগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে। সাবরেজিষ্ট্রারের দুর্ণীতি ও হয়রানির প্রতিবাদে ইতিপূর্বে দলিল লিখকরাও আন্দোলন করেন। দলিল জালিয়াতির অভিযোগে সাবরেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ভূক্তভোগী।

সাবরেজিষ্ট্রারের অনিয়ম ও হয়রানির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন দলিল লিখকসহ সেবা প্রত্যাশীরা। দুই কর্মদিবসে সরেজমিন ঘুরে ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে জানা যায়, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দলিল জালিয়াতির অভিযোগে শমশেরনগরের রাধানগর গ্রামের মো. খালিছ মিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার, দলিল লেখক ও ইউপি সদস্যসহ ৮

জনকে আসামী করে গত বছরের ২৬ জুলাই মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দায়িত্ব অর্পন করেন। পিবিআই এর তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে সাব-রেজিষ্ট্্রারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০, ৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

পিবিআই মৌলভীবাজার জেলার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে এবং সে মোতাবেক প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার বাদি মো. খালিছ মিয়া বলেন, মামলা চলমান রয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য একটি পক্ষ উদ্যোগ নিলেও কোন মীমাংসা হয়নি।

এভাবে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নানা অনিয়ম, দুর্ণীতি ও দাতা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ, হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নিজের খাসকামরায় অবস্থান করেন সাবরেজিষ্ট্রার। কিছু পরে দলিল লিখক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।

এসময়ে সকাল সাড়ে দশ ঘটিকা থেকে দুপুর দেড় ঘটিকা পর্যন্ত অফিসের ক্লার্ক দলিল চেক করে রেজিষ্ট্রির জন্য জমা করেন ২৫টি দলিল। একইভাবে ৩ মার্চ রবিবার দুপুর দেড়ঘটিকা পর্যন্ত দেখা যায় অফিসের কলাপসিকল গেট আটকিয়ে দলিল লিখকদের নিয়ে আভ্যন্তরিন প্রশিক্ষণ কর্মশালা করাচ্ছেন সাব-রেজিষ্ট্রার নিজে। ওই দিন সকাল ১০ ঘটিকা থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় শতাধিক লোক অফিসের সম্মুখে ভিড় করেন। অসুস্থ রোগীও থাকতে দেখা যায়।

প্রতিটি দলিলের সাথে দাতা ও গ্রহীতা মিলে পাঁচ, সাত জন করে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখেই কর্মশালা থেকে উঠে এজলাসে চলে যান সাব-রেজিষ্ট্রার। তবে যেসব দলিলের সাথে আর্থিক সুবিধা দেয়া হয়নি সেগুলোতে নানা অজুহাত দেখিয়ে দলিল ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ তুলেন। যেগুলোতে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে স্বাক্ষর করছেন।

অভিযোগ করে শমশেরনগরের আব্দুল হান্নান করেন, আমার জমি কর্তৃত্বের ক্ষমতা (পাওয়ার অব অথরিটি) দিতে চাইলে সাবরেজিষ্ট্রার সেটি করতে দেননি। তবে দালালের মাধ্যমে তাকে খুশি করালে সেটি করা যেতো।

দলিল দাতা সুলতানা রাজিয়া বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড় ঘটিকা পর্যন্ত অফিসে বসে থাকতে হয়েছে। সাড়ে তিনঘন্টা পর দেড়টায় সাবরেজিষ্ট্রার এজলাসে উঠে কাজ শুরু করেন। তবে সুবিধাদি না দেয়ার কারণে ভূমি গ্রহীতার মূল ভোটার আইডি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করেননি। পরে ৩ মার্চ রবিবার ফের আমাদের ৮ জন লোককে সকাল থেকে এসে বসে থাকতে হয়েছে।

তাদের মিটিং ছিল দেড়টা পর্যণÍ। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে রেজিষ্ট্রি করাতে হয়েছে। দলিল দাতা আনোয়ার খান বলেন, ২৭ ফেব্রুয়ারী অনেক দেরীতে সাব রেজিষ্ট্রার এজলাশে উঠার কারনে ৫২ নম্বর সিরিয়াল থাকায় আমাদের দলিল আর রেজিষ্ট্রি করেননি। ৩ মার্চ রবিবার পুনরায় এসে দেখি দুপুর পর্যন্ত গেট বন্ধ করে কর্মশালা করছেন। পরে দলিল দেখে সাবরেজিষ্ট্রার গ্রহীতার মূল আইডি কার্ড চেয়ে বসেন। এতে আবারো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এভাবে নানা দুর্ভোগ, আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানি হওয়ার কথা শোনান দলিল লিখক,দাতা ও গ্রহীতাদের অনেকেই।

অভিযোগ বিষয়ে কমলগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রার মো. রহমত উল্ল্যাহ লতিফ বলেন, অভিযোগ মোটেও সঠিক নয়। আইন মোতাবেক দলিল রেজিষ্ট্রি হচ্ছে। কোন অনিয়ম বা হয়রানি করা হচ্ছে না। পাওয়ার অব অথরিটি করাতেও কাউকে বাঁধা দেয়া হয়নি। অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে সেগুলো নিয়ে আসার জন্য বলা হয়। তাছাড়া মাঝে মধ্যে অফিসের প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। মামলার বিষয়টি মূলত তাদের দাতা ও গ্রহীতার। তবে আমি বিজ্ঞ আদালতে জবাব দিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category