স্টাফ রিপোর্টার ঃ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুরে ধানী জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত থাকলেও রহস্যজনক কারনে প্রশাসন রয়েছে নিরব। উপজেলায় গত দু’দশকে পুকুর খননে ফসলি জমি কমছে প্রায় দের হাজার হেক্টর। এক শ্রেণীর পরিবেশ বিবর্জিত ও সমাজ বিরোধী মাটি ব্যাবসায়ী এলাকার সহজ সরল মানুষকে পুকুর খননে উৎসাহিত করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ নভেম্বর সকালে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ল²ীপুর গ্রামের, বিটল কবিরাজ, অতুল কবিরাজ, প্রতুল কবিরাজ, খোকন কবিরাজ ও সঞ্জয় কবিরাজ তাদের প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ভিকু মেশিনের মাধ্যমে পুকুর খনন শুরু করে।
জানা গেছে, শাহিন আলমসহ উপজেলার ১৪ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি পুকুর খননের মাটি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। এসব মাটি ব্যবসায়ী আমন মৌসুমে কৃষকের ধান ঘরে তোলার আগেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে সহজ সরল মানুষদের নানা ভাবে উৎসাহিত করছে তাদের জমিতে ধান চাষ না করে পুকুর খননে। ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়া যাবে পুকুর খননে। পুকুর খননও হবে এবং খননকৃত মাটির মুল্যও তারা পাবে। মাটি ব্যবসায়ীদের ওইসব প্রলোভনের খপ্পরে পড়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষরা তিন ফসলের জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছে। এমনকি তাদের ফাঁদে পড়ে উপজেলার ওই গ্রামের কয়েকটি পরিবার তিন ফসলের জমি এবং ফলজ বাগানের গাছ কেটে পুকুর খনন শুরু করেছে। অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তা ব্যাক্তিগন নিরব দর্শকের ভুমিকা থাকছে।
গত প্রায় দুই দশকের অধিক সময় ধরে প্রতি বছর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আমন ধান কেটে নেয়ার পরে ফাঁকা জমিতে শুরু হয় পুকুর খননের কাজ। এবারও উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে পুকুর খননে বিগত বছর গুলোর ধারা বাহিকতা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় ওইসব মাটি ব্যবসায়ীরা। মাটি ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে একদিকে তিন ফসলের জমি কমছে। অপর দিকে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পরিবেশ ধংশের পাশাপাশি মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টর (কাঁকড়া) এবং ১০ চাকার ডাম্পার ট্রাক অবৈধ ভাবে জেলার আঞ্চলিক মহা সড়ক ব্যাবহার করে করছে। পুকুর খননের এসব মাটি জেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় শাহিন আলম ও তার সহোযোগিরা ওইসব যানবাহনে যোগে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছে। বেআইনি ভাবে এসব যানবাহন আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং লোকাল রাস্তায় চলাচলের ফলে জেলার মহাসড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা কয়েক গুণ।
অপর দিকে অতিরিক্ত মাটি ভর্তি যানবাহন চলাচলে লোকাল রাস্তা গুলোর পিচ-পাথর উঠে যাওয়ায় দিন দিন এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। দেশের খাদ্য চাহিদা পুরনে সহায়ক হিসেবে ধান চাষের পাশাপাশি রবিশষ্য উৎপাদনে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিষেধাজ্ঞা অমান্য হচ্ছে এ উপজেলায়। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ৩৯৭ দশমিক ৬৭ বর্গ কিঃমিঃ আয়োতনের এ উপজেলায় ৩০৭টি মৌজা এবং ২৯৮ টি গ্রামে ৩০ হাজার ৩৫০ হেক্টর তিন ফসলি কৃষি আবাদী জমি রয়েছে। সূত্র মতে উপজেলার ১০ ইউনিয়নে গত দু’দশকে পুকুর খননের ফলে তিন ফসলি জমি কমছে প্রায় দের হাজার হেক্টর। পুকুর খননের ফলে প্রায় দের হাজার হেক্টর তিন ফসলের জমি কমছে এর সত্যতা অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোমরেজ আলী বলেন এ পরিসংখ্যানে ত্রুটিপূর্ণ।
মহাদেবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত জাহান বলেন, সরকারি নীতিমালা লংঘন করে পুকুর খননের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে তিন ফসলের জমিতে যে ভাবে পুকুর খনন শুরু হয়েছে তাতে করে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম খাদ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁ জেলা দ্রæত খাদ্য ঘাটতিতে পরার আশংকা রয়েছে। এই জেলা খাদ্য ঘাটতিতে যাতে না পরে এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক, মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভুমি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।#ে