এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ করে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছোসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শুরু হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন কর্মী একটি ৫ তলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। পরে আন্দোলকারীরা ওই ভবনে উঠে মারধর শুরু করে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা পাইপ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। অন্তত: তিনজন ছাত্রলীগ কর্মী ছাদ থেকে পড়ে যায়। ছাত্রলীগ’র পক্ষ থেকে জানিয়েছে, চট্টগ্রামের ১০০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন তাদের।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় মুরাদপুরে এ ঘটনা ঘটে। হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী মোঃ জালাল উদ্দিন জুবায়ের নামে একজন গুরুতর: জখম হয়েছেন। তার হাত ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।বেলা ২টা থেকে ষোলোশহর স্টেশনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা। অন্যদিকে মুরাদপুরে অবস্থান নেয় কোটা আন্দোলনকারীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই নম্বর গেট থেকে একটি মিছিল যায় মুরাদপুরের দিকে। কোটা আন্দোলনকারীরা ধাওয়া দিলে পিছু হটে তারা। কেউ কেউ মুরাদপুর বেলাল মসজিদের পাশের ৫ তলা ভবনে আশ্রয় নেন।
কোটা আন্দোলনকারীদের অনেকে দাবি করছেন, ছাত্রলীগের একটি অংশ ওই ভবনের ছাদে গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা গিয়ে প্রতিহত করেন।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল করিম সংবাদ মাধ্যম কে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন কর্মী ওই ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা গিয়ে তাদের ছাদ থেকে ফেলে দেন। আহতদের তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মাহমুদুল করিম। আহতরা হলেন-আব্দুলল্লাহ আল সাইমুন, ওয়াহিদুল রহমান সুজন, ইরফানুল আলম, জাহেদ অভি, মেহরাজ সিদ্দিকী পাভেল, জাবেদ ইকবাল সহ ১৫-২০ জন। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ার্টি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মায়মুন উদ্দিন মামুন অভিযোগ করেন, ছাত্রদল এবং শিবিরের চিহ্নিত অস্ত্রধারী ক্যাডাররা জালাল সহ তিনজনের রগ কেটে দিয়েছেন। তারা চমেকের আইসিইউতে আছেন।
তবে, হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাথায় গুরুতর: আঘাত নিয়ে একজন আইসিইউতে ভর্তি আছেন। চট্টগ্রামের দু’একটি পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সংবাদ কর্মীর হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, ৫ তলা ভবন থেকে তিনজন নিচে পড়েছেন। কেউ কেউ পাইপ বেড়ে নিচে নামার সময় পড়ে আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, শিবিরের হামলায় ১০০ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন।
বিকেলে মুরাপুরে সংঘর্ষের সময় অন্তত: চারজন বন্দুকধারীকে দেখা গেছে। তারা স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তাদের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন।