এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। এখনো উপজেলার অনেক নিম্ন এলাকা থেকে পানি নামেনি। এতে এখনো অনেক পরিবারের ঘরে চুলা ও জ্বলছে না। বাইরে থেকে রান্না করা খাবার সংগ্রহ করে খেতে হচ্ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকের বসতঘর পুরোটাই যেনো ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়ে রয়েছে। বানভাসি পরিবার গুলো প্রায় সব কিছু হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। খাবারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের চিন্তায় তাদের চোখে ঘুম নেই।
উপজেলার ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পরাগলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাজানো-গোছানো ঘরের কিছুই যে অক্ষত রইলো না। খাট, পালঙ্ক, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, দলিল-দস্তাবেজ সব বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।’
৮ নং দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘জীবনে এমন বন্যা দেখিনি। এ বন্যায় সব শেষ করে দিয়েছে। থাকার ঘর, পুকুরের মাছ, জমির ধান কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’
৭ নং কাটাছরা ইউনিয়নের কয়েকজন বলেন, ‘প্রায় ১০ দিন চুলা জ্বলছে না। রান্নাঘরে পানি। প্রথম পাঁচ দিন তো ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। দু’দিন আগে বাড়ি এসেছি। কিন্তু, এখনো চুলায় আগুন দিতে পারিনি।’
সব হারানোর এমন গল্প একটা দু’টো নয় শতো শতো। ঘর, আসবাব, কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে ব্যবসার পুঁজি সহ প্রায় সব কিছু হারিয়ে দিশেহারা মানুষ গুলো। বানের পানি যতো-ই কমছে মানুষের বেঁচে থাকার সহায়-সম্বল গুলোর ক্ষত চিহ্ন যেনো ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ দিকে বন্যা-পরবর্তী স্থানীয়দের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয় মীরসরাই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন। পানিবন্দি ছিলেন প্রায় দু’লাখ মানুষ। মাইলের পর মাইল রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। হাঁটাচলার পরিবেশ/ পরিস্থিতি নেই বললেই চলে। কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি সহ সার্বিক ক্ষতি হয়েছে শতো কোটি টাকার ও বেশি সম্পদ।
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, পানি কমে যাওয়ায় প্রায় সবাই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে উঠেছেন। তবে, অনেক পরিবারের বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে, স্যাঁতসেঁতের কারণে ঘরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলায় বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সমীক্ষার জন্য ৯ জন অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তালিকা করা হলে আমরা সে অনুযায়ী পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবো।