• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নাচোলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত পার্বতীপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহিত দিবস পালিত,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজশাহী মহানগর বিএনপির জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বন্যায় লন্ডভন্ড ঘর-বাড়ি জ্বলছে না চুলা, অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে দরীদ্ররা

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৪৯ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪

এম, এ কাশেম জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। এখনো উপজেলার অনেক নিম্ন এলাকা থেকে পানি নামেনি। এতে এখনো অনেক পরিবারের ঘরে চুলা ও জ্বলছে না। বাইরে থেকে রান্না করা খাবার সংগ্রহ করে খেতে হচ্ছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকের বসতঘর পুরোটাই যেনো ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়ে রয়েছে। বানভাসি পরিবার গুলো প্রায় সব কিছু হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। খাবারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের চিন্তায় তাদের চোখে ঘুম নেই।

উপজেলার ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের পরাগলপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাজানো-গোছানো ঘরের কিছুই যে অক্ষত রইলো না। খাট, পালঙ্ক, টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, দলিল-দস্তাবেজ সব বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।’
৮ নং দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘জীবনে এমন বন্যা দেখিনি। এ বন্যায় সব শেষ করে দিয়েছে। থাকার ঘর, পুকুরের মাছ, জমির ধান কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’

৭ নং কাটাছরা ইউনিয়নের কয়েকজন বলেন, ‘প্রায় ১০ দিন চুলা জ্বলছে না। রান্নাঘরে পানি। প্রথম পাঁচ দিন তো ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। দু’দিন আগে বাড়ি এসেছি। কিন্তু, এখনো চুলায় আগুন দিতে পারিনি।’
সব হারানোর এমন গল্প একটা দু’টো নয় শতো শতো। ঘর, আসবাব, কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে ব্যবসার পুঁজি সহ প্রায় সব কিছু হারিয়ে দিশেহারা মানুষ গুলো। বানের পানি যতো-ই কমছে মানুষের বেঁচে থাকার সহায়-সম্বল গুলোর ক্ষত চিহ্ন যেনো ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ দিকে বন্যা-পরবর্তী স্থানীয়দের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো।
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয় মীরসরাই উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন। পানিবন্দি ছিলেন প্রায় দু’লাখ মানুষ। মাইলের পর মাইল রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। হাঁটাচলার পরিবেশ/ পরিস্থিতি নেই বললেই চলে। কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি সহ সার্বিক ক্ষতি হয়েছে শতো কোটি টাকার ও বেশি সম্পদ।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মাহফুজা জেরিন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, পানি কমে যাওয়ায় প্রায় সবাই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে উঠেছেন। তবে, অনেক পরিবারের বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে, স্যাঁতসেঁতের কারণে ঘরে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলায় বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার সমীক্ষার জন্য ৯ জন অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তালিকা করা হলে আমরা সে অনুযায়ী পুনর্বাসনের কাজ শুরু করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category