• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদের সম্পদের পাহার অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দুদকের

দিনকাল বিডি ২৪ / ২৫০ Time View
প্রকাশঃ শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সোহেল রানা,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: এ যেন রুপ কথার গল্প। কৃষক পরিবারের সন্তান উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি,বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্ব শেষে কৃষি মন্ত্রী হয়েছেন। একক ভাবে (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) মৌলভীবাজার ৪ আসনটি শাসন করেছেন প্রায় ৩১ বছর। ১৯৯৬ সালের পূর্বে নামে আগে মুক্তিযোদ্ধা ব্যবহার না করলে ও ১৯৯৬ সালে পর থেকে নিজের নামের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা পদবী ব্যবহার শুরু করেন। তার অপরিসীম ক্ষমতার দাপট এই আসনেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। ছিল সারা জেলা জুড়ে।

শুধু তিনিই নয়,তার ভাইয়েরা ও প্রশাসনে ছড়ি ঘুড়িয়েছেন। প্রসাশনের কর্তা ব্যক্তিরা তাদের দাপটের কাছে তটস্থ ছিলেন। যে সব কর্মকর্তা তাদের আবদার পূরণ করতে রাজি হতেন না তাদের কে অন্যত্র বদলী করা হতো,আর যারা তাদের কথা মেনে চলতেন তারা একই কর্মস্থলে যুগের পর যুগ অবস্থান করেছেন। নিজে ও ভাইদের মাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্ণীতি করেছেন।

ভূয়া প্রকল্পের নামে অর্থ আতœসাত,বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে নিযোগ বানিজ্য,ট্রেন্ডার বাজী সহ বালু মহাল ও অবৈধ ভাবে বনের বাঁশ পাচার,বিএনপির কতিপয় নেতাদের আশ্রয়-প্রশয় দিয়ে করেছেন ব্যবসা-বানিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একক আধিপত্য বজায় রাখার জন্য স্থানীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনীতিতে কোন্দল জিয়ে রেখেছিলেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের কতিপয় নেতা অভিযোগ করেছেন।

প্রায় ৩১ বছর ক্ষমতায় অবস্থান করার সুবাধে নিজ নামে, স্ত্রী ও সন্তানদের নামে নগদ কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন,করেছেন কানাডার বেগমপাড়ায় স্ত্রীর নামে বাড়ী,রাজধানী ঢাকা সহ দেশে আটটি অ্যাপাটমেন্ট,লেক ও বাগান বাড়ী,বনভূমির জমি দখল,চায়ের বাগান,ছোট ভাইকে বানিয়েছেন শিশু মুক্তিযোদ্ধা,আছে কৃষি ও অকৃষি মোট ২১ দশমিক ৭৬৩ একর জমি সহ অপর ভাইদের বানিয়েছেন জন প্রতিনিধি। হয়েছেন রাজকীয় জীবনের অধিকারী। দুদকের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সময়ে তার নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষন করে এই তথ্য উঠে এসেছে। শুধু নিজেরাই নয় তাদের নিকট আতœীয়-স্বজন ও অনুসারীরা ও হয়েছেন অর্থ-বিত্ত ও সম্পদের মালিক। সরকারের পট পরিবর্তনের তিনি সহ তার অনুসারীরা ও আত্মগোপনে চলে গেছেন। মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসন থেকে টানা ৭ম বারের মতো নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ ড. মো.আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উপাধক্ষ্য ড.মো.আব্দুস শহীদ ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুরের সিদ্বেশ্বরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল বারী এবং মাতা সাজেদা খানম। ৮ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্মাতক সম্পন্ন করেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ জুলাই ২০১৮ সালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওপর গবেষণায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আরো জানা যায়,মো.আব্দুস শহীদ ২৭ ফেব্রæয়ারি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ১ অক্টোবর ২০০১ সালের অষ্টম,২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নবম,৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের দশম ও ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ,১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদে হুইপ,১০ম সংসদের সরকারি প্রতিশ্রæতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তিনি সংসদ কমিটি,পিটিশন কমিটি ও কার্যপ্রণালী বিধি স¤পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন। এছাড়াও ১১তম জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের কৃষিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় তার হলফ নামায় মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমান ছিল ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৭ টাকা। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমান দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৭৫ লাখ ১৮ হাজার ৫৩০ টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসে তার হলফনামায় টাকার হিসাবে আয় দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৮ টাকা। আগের হলফনামায় স্ত্রীর নামে কোন সম্পদ না দেখালে ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামায় স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় দেখানো হয়েছে স্ত্রীর নামে নগদ ৭ লাখ ১২ হাজার ৯২ টাকা। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর নামে জমা রাখা টাকার পরিমাণ ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৩ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ও রয়েছে এফডিআর । এছাড়া কৃষি ভুমি ৫ দশমিক ৭ একর,অকৃষি জমি ১ ৬দশমিক ৭৫৫ একর। যার মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

স্থানীয় অনুসন্ধান ও অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়,তিনি কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত হীড বাংলাদেশের বিপরীতে লাউয়াছড়া উদ্যান ঘেষা চার একরের কিছু বেশি ভূমি ক্রয় করেন। এই ভূমির সাথে বনের আরো ছয় একর মিলিয়ে প্রায় দশ একরের মতো ভূমি দখল করেন। এখানে গড়ে তুলেন সাবারি টি প্ল্যান্টেশন সহ লেবু,আনারস বাগান। চা বাগানের রাস্তার লাইট ও ডিপ টিউবওয়েল বসিয়েছেন সরকারি খরচে। পট পরিবর্তনের কারনে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুস শহীদের দখলে থাকা প্রায় পাঁচ একরের বেশী জায়গা উদ্বার করেছে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার কাঁঠাল কান্দি গ্রামে ৮ একর ভুমিতে গড়েছেন বাগান বাড়ী। সেখানে চা বাগান,লেক,ট্যুরিষ্টের জন্য বাংলো বাড়ী সহ এখানে পোষা হতো বন্য প্রানী হরিণ ও।

এই বাংলো বাড়ীতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ, সৌর বিদ্যুতের লাইট সহ দুটি ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয় সরকারী খরচে। পট পরিবর্তনের কারনে স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ নাগরিকরা বাংলো বাড়ী ভাংচুর করে ও হরিন গুলো পাহাড়ে ছেয়ে দেয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদের কিছু সম্মুখে তার তৈরী বাড়ীতে প্রবেশের জন্য সরকারী খরছে রাস্তা ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া উপাধ্যক্ষ ড.মো: আব্দুস শহীদ এর ছোট ভাই মোসাদ্দেক আহমেদ মানিককে কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করে রেখে ছিলেন দীর্ঘ দিন,এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বানিয়েছেন শিশু মুক্তিযোদ্ধা,অপর ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলকে করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। আরেক ছোট ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল,আরেক ছোট ভাই ইফতেখার আহমেদ বদরুলকে করেছেন কয়েকবার রহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান। তার বড় মেয়ে উম্মে ফারজানাকে করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category