মোঃ কামরুজ্জামান,বাগেরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও বিএনপির সক্রিয় কর্মী রাজিব সরদার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে।
রাজিব সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক নুরইসলাম সরদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অবস্থায় ধারদেনা করে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় করে রাজিবের চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তার আরও কয়েক দফা কেমোথেরাপি প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি এত বিপুল অর্থের সংস্থান করতে পারছে না।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়েও রাজিব দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছিলেন। দলের প্রতি তার নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা এলাকার নেতাকর্মীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ বনি বলেন, রাজিব খুবই ভদ্র, শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, কিন্তু কখনো নিজের অবস্থাকে দুর্বলতা হিসেবে নেয়নি। সবসময় হাসিমুখে সবার সঙ্গে আচরণ করত। এখন ওর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পেতে দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমাজের সবাই যদি একটু সহায়তার হাত বাড়ায়, তাহলে হয়তো ওকে আবার আগের মতো হাসতে দেখব।
রাজিবের ভাড়াবাড়ির মালিক এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, রাজিবের বাবা একজন দিনমজুর অতি কষ্টে সংসার চালান। রাজিব এখন মারাত্মক অসুস্থ, কিন্তু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সমাজের দানশীল মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ যদি সাহায্যের হাত না বাড়ান, তাহলে ছেলেটাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
রাজিবের বাবা নুরইসলাম সরদার বলেন, ছেলেটাকে বাঁচাতে এখন সমাজের সহৃদয় মানুষের সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজিব নিয়মিত দলের কর্মসূচিতে অংশ নিত। এখন শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
রাজিবের মা রওশনারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটা জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী। এখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমার স্বামী একজন সাধারণ দিনমজুর ভাড়া বাসার খরচই কষ্টে চালাই। ছেলের চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের দানশীল ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আমি অনুরোধ করছি, আমার ছেলেটার চিকিৎসার জন্য দয়া করে সহযোগিতা করুন।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদল নেতা শেখ আল মামুন বলেন, রাজিব আমাদের এলাকার পরিচিত মুখ। প্রতিবন্ধী হয়েও দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিত। দলের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ। কিন্তু আজ সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। আমি সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ করছি আপনারা রাজিবের পাশে দাঁড়ান।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছেও বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, রাজিবের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য। তিনি সবসময় দলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই অসহায় রাজিবের প্রতিও তিনি মানবিক দৃষ্টি দেবেন। রাজিবের চিকিৎসা নিশ্চিত হলে শুধু একটি প্রাণই নয়, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর স্বপ্নও বেঁচে থাকবে।