• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপক গণসংযোগ রাজশাহীতে ডিবির অভিযানে পালিয়েছে কুখ্যাত মাদক কারবারী মাসুম ভারতীয় সিরাপসহ প্রাইভেট কার জব্দ, গ্রেপ্তার ১২ রাজশাহীতে পথকুকুরের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন কাজল রেখা রাজশাহীতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার বাঘায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২২ বছরের নারীকে কিশোরী দেখিয়ে থানা থেকে ছাড়ার দাবি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা, ৩৯ কলেজে কেউ পাস করেনি নওগাঁর মান্দায় এমপির সঙ্গে প্রসাদপুর দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

রাণীনগরে প্রায় ৮০ লক্ষ্য টাকা ব্যয়ে নির্মান হলো বৌদ্ধভূমিতে স্মৃতিসৌধ

দিনকাল বিডি ২৪ / ২৪৩ Time View
প্রকাশঃ সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর রাণীনগরে বৌদ্ধভূমিতে নির্মিত হলো স্মৃতিসৌধ উপজেলার আতাইকুলা পালপাড়া বৌদ্ধভূমিতে প্রায় ৮০লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরনে স্মৃতিসৌধ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ প্রায় ১০মাস আগে শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কিছুটা দাবি দাওয়া পূরন হতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ৫২জনের এই গণকবরটি অযত্নে অবহেলায় ঝোপ-ঝাড়ের মধ্যে পরে ছিলো। সরকার আসে সরকার যায় এই গণকবরের উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন দৃশ্যমান ছিলো না এমনই আক্ষেপ করে বলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পালপাড়া গ্রাম ঘেরাও করে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাক-বাহিনী ও তাদের দোসররা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের বৃদ্ধ ও যুবকদের ধরে নিয়ে আতাইকুলা গ্রামের সুরেশ্বর পালের বাড়ির আঙ্গীনায় একত্রিত করে। পাক সেনারা ব্রাশ ফায়ারে ৫২জন মুক্তিকামী জনগনকে নির্বিচারে হত্যা করে। এসময় পাক-বাহিনী গনহত্যা, লুটপাট ও নারী নির্যাতনসহ ধ্বংসযোগ্য চালায়। পাক হানাদার বাহিনীর ব্রাশ ফায়ারে সুরেশ্বর পাল, সতীশ চন্দ্র পাল, যুগেশ্বর চন্দ্র পাল, লকেশ্বর চন্দ্র পালসহ ৫২ জন নিহত হন। ৫২ জন শহীদের তাজা রক্তে সে দিন নওগাঁর ছোট যুমনা নদীর পানি লাল হয়ে যায় । নির্যাতিত নারী ও স্বজনদের হৃদয় বিদারক আর্তনাথ ও কান্নায় সে দিন রাণীনগর উপজেলার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। ঘটনার পর শহীদ পরিবারের সদস্যরা ৫২জনকে একই স্থানে গণকবর দিয়ে রাখে। পারিবারিক উদ্যোগে তারা আংশিক ইটের প্রাচীর ও বাঁশের বেড়া দিয়ে গনকবরটি ঘেরাও করে রেখেছিলো। সেই স্থানে শহীদের স্মৃতি রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আর্থিক সহযোগীতায় প্রায় ৮০লক্ষ টাকা ব্যয়ে নওগাঁর গুণপূর্ত বিভাগ এই স্মৃতিশোধের নির্মাণ কাজ প্রায় ১০ মাস আগে শুরু করেন। ইতিমধ্যে কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে হস্তান্তর হতে পারে এমনটাই বলছে নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ। শহীদ পরিবারের সদস্য গৌতম পাল জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবাসহ ৫২জনকে পাক-বাহিনীরা হত্যা করে চলে যায়। এই লাশগুলো আমরা গ্রামবাসির পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন সময়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। প্রায় ৫৪বছর পর তাদের স্মরণে এখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলো। এতেকরে আমরা শহীদ পরিবার একটু হলেও শান্তির নিশ্বাস ফেলছি।নওগাঁর গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহিদ হাসান জানান, ৮০লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা বৌদ্ধভূমির স্মৃতিসৌধের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সামনে সপ্তাহের মধ্যে আমরা হস্তান্তর করবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category