জুনায়েদ রহমান চন্দন, স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া | ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় লোটো শোরুমের ম্যানেজার পিন্টু আকন্দ (৩৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মোক্তার হোসেনকে (৩৫) গাজীপুরের টঙ্গি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন এবং এজেন্টশিপ দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
অভিযান ও গ্রেফতার
র্যাব-১২ (সিপিএসসি, বগুড়া) এবং র্যাব-১ (সিপিসি-২, উত্তরা) এর একটি চৌকস দল গত রবিবার রাতে গাজীপুর জেলার টঙ্গি পূর্ব থানাধীন স্টেশন রোড এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মোক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোক্তার হোসেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কনকাই গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত পিন্টু আকন্দ গত তিন বছর ধরে দুপচাঁচিয়া সিও অফিস মোড় সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটের ‘লোটো’ শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২২ ডিসেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করার সময় একটি সাদা রঙের হাইয়েস (HIACE) মাইক্রোবাসে করে আসা ৬-৭ জন দুষ্কৃতকারী তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৫-৩২৬৮) শনাক্ত করা হয়। ওই রাতেই আদমদিঘী থানার কোমরভোগ এলাকায় রাস্তার পাশে পিন্টুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার নাক-মুখে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যার নেপথ্যে অনলাইন জুয়া
গ্রেফতারকৃত আসামী মোক্তার হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল অনলাইন জুয়া (1xBet)।
এজেন্টশিপ নিয়ে বিরোধ: নিহত পিন্টু আকন্দ অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম 1xBet-এর এজেন্ট ছিলেন।
টাকা হারানো: মোক্তার হোসেনসহ অভিযুক্তরা জুয়া খেলে বিপুল পরিমাণ টাকা হারান। মোক্তার একাই প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা খুইয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
পরিকল্পনা: বড় অংকের টাকা হারানোর পর তারা পিন্টুকে চাপ প্রয়োগ করে তার এজেন্টশিপটি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে অপহরণ করা হয় এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
বর্তমান অবস্থা
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।