মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উদ্ধারকৃত
৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন আসল মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন
পুলিশ কমিশনার ড. মো: জিল্লুর রহমান।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আরএমপি পুলিশ সদর দপ্তরের সভাকক্ষে
আনুষ্ঠানিকভাবে এই সকল মোবাইল হস্তান্তর করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার ড.
মোঃ জিল্লুর রহমান , যিনি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এসব ফোন
শনাক্ত ও উদ্ধার করার সফল উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং মালিকদের হাতে তুলে
দেন। উদ্ধারকৃত ফোনগুলোর মধ্যে ছিল শুধুমাত্র রাজশাহী মহানগরীর নয়, দেশের
বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসও, যেগুলো সংশ্লিষ্ট থানায়
দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট
শনাক্ত করেছে।
পুলিশ কমিশনার তার বক্তব্যে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে
অবহিত করেন এবং মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য পুলিশের
কাছে জানানোর জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,
নাগরিকদের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা
নিতে পারবে। এরপর তিনি আরএমপি’র ফেসবুক পেজ, হটলাইন নম্বর এবং
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নম্বর ব্যবহার করে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার
উপায় ব্যাখ্যা করেন।
পুলিশ কমিশনার অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, আপনার সন্তান কোথায় যায়, কী
ভাবে চলাফেরা করে, কার সঙ্গে থাকে, নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না,
এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা মাদক বা
অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যেসব পিতা-মাতা নিজে মাদকাসক্তÑতাদের উচিত
সন্তানদের ভবিষ্যৎ খেয়াল রেখে মাদক থেকে দূরে সরে আসা। তিনি যোগ
করেন, সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে সঠিক পথ দেখালে সে সমাজে সম্মানজনক
অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার
(ক্রাইম) (চলতি দায়িত্বে), মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, পিপিএম, উপ-পুলিশ
কমিশনার (সদর) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্যান্য
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।
মোবাইল ফোন ফেরত পাওয়া মালিকরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের
প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এই জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর
উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এ উদ্যোগ শুধু হারানো মোবাইল
উদ্ধার করেনি, পুলিশে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
মালিকেরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এরকম মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর
সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।#