ষ্টাফ রিপোটার: শস্য ভাণ্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় উর্বর ফসলী জমি দিন দিন কমতে শুরু করেছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভেকু মেশিন দিয়ে তিনফসলি জমি কেটে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় পুকুর।
এ সকল ফসলি জমি খনন করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর পরিবহনের জন্য উপজেলার কাঁচা ও পাকা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করার কারণে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় মাটি পড়ে অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অসাধু ব্যাক্তিদের জন্য সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে জনসাধারণ। তিন’ফসলি জমিতে পুকুর খনন করলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় খননকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
একের পর এক ফসলী জমিতে পুকুর খননের কারণে ফসলি জমির পানি নামতে না পারায় দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এসব দেখেও আইনের কোনো প্রয়োগ করছে না বলে অভিযোগ জনসাধারণের।
আত্রাই উপজেলা কৃষি ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ১০০ হেক্টর। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে ২০০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে।
আত্রাই উপজেরার সাহাগোলা ইউনিয়নের মাগুড়া আকবরপুর আদর্শ গ্রামের পুর্ব দিকে কদমতলি নামক স্থানে মির্জাপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী যুবদল নেতা খাটো মিঠু তিনফসলি জমিতে পুকুর খনন কাজের ধারা অব্যাহত রাখলেও দেখার কেউ নেই।
সাহাগোলা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক আকরাম জানান, মাঠের মধ্যে বড় পুকুর খনন করলে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ওইসব জমিতে আর ফসল হচ্ছে না। যারা জমি কেটে পুকুর করছেন তারা অনেক প্রভাবশালী। ভবানীপুর গ্রামের মো.আমিনুল ইসলাম রবিন বলেন, ফসলি জমির উপরে যেভাবে পুকুর খনন শুরু হয়েছে, এতে করে মিথ্যের আশ্রয়ে কেউ বলে বাড়ি তৈরি করব,কেউ বা বলে আবাদ হয় না।
এরকম বিভিন্ন কথা বলে একের পর এক ফসলের জমিতে পুকুর খনন করেই যাচ্ছে। সাধারণ মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার প্রায় সকল মাঠে আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলছে। এভাবে যদি আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলে তাহলে যেটুকু ফসলি জমি অবশিষ্ট আছে তাও ভবিষ্যতে থাকবেনা। আবাদি জমি কম বলে গো-খাদ্য সংকটের কারণে অনেক গরু, মহিষ ও ছাগল প্রতিপালন ছেড়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে অনেকেই বলেন, যুবদল এ নেতা খাটো মিঠু একজন মাটি ব্যবসায়ি পুকুর খনন করে ইট ভাটাতে মাটি বিক্রয় করায় তার পেশা উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি দপ্তরকে মানেজ করে তাদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর খননের এ কাজ।
তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়না আইনি কোনো পদক্ষেপ। যার কারণে তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম কাওছার হোসেন বলেন, উপজেলায় প্রতি বছর কি পরিমান ফসলি জমি হারিয়ে যাচ্ছে এ বিষয়ে আমাদের কোন জরিপ করা নেই। আত্রাই উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. ইকতেখারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,আবাদি জমিতে পুকুর খনন করা আইনত অপরাধ,
তবে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।