নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় পুকুর সংস্কারের সরকারি অনুমোদনের দোহাই দিয়ে প্রায় ১৩ একর তিন ফসলি ধানি জমি জবরদখল ও অবৈধভাবে খনন করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার ০২নং ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষীরামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। শুধু পুকুর খননই নয়, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরযোগে সেই মাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে লক্ষীরামপুর গ্রামের আলহাজ্ব বছির উদ্দীনের ছেলে মোঃ মহাতাব মন্ডল বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষীরামপুর গ্রামের আলহাজ্ব লফির মন্ডলের ছেলে মোঃ তারিফ মন্ডল স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে মাত্র ৬.১১ একর জমিতে পুকুর সংস্কারের (খনন নয়) একটি অনুমোদন নেন। কিন্তু সেই অনুমোদনের অপব্যবহার করে তিনি পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের কোনো তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক প্রায় ১৩.০০ একর ধানি জমি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে খনন শুরু করেন। এর মধ্যে অভিযোগকারী মহাতাব মন্ডলের পৈতৃক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন লক্ষীরামপুর মৌজার ২০৭ নম্বর খতিয়ানের ৩৮৮ দাগের ১.০০ একর ফসলি জমিও (শ্রেণি: বিল) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভুক্তভোগী মহাতাব মন্ডল বলেন,”তারিফ মন্ডল আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাদের ফসলি জমি কেটে সাবাড় করছে। দিন-রাত অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় ও ভরাট কাজে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হচ্ছে, ধুলাবালিতে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। আমরা বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।”
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত মোঃ তারিফ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ”আমি নিয়ম মেনেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পুকুর সংস্কারের অনুমোদন নিয়েছি। কারও জমি জোর করে কাটা হচ্ছে না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তবে অনুমোদনের চেয়ে দ্বিগুণ জমি খনন এবং ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রির বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ বলেন,”ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খনন বা মাটির বাণিজ্যিক ব্যবসার কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।”
তারা আরও জানান, দ্রুতই ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত জমি খনন এবং ইটভাটায় মাটি বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত তারিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।