মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি,
নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িচালক (ড্রাইভার) কনস্টেবল মেহেদী হাসান স্বপন এক নারী মাদক কারবারিকে কুপ্রস্তাব দিয়ে দেখা করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন। স্থানীয় জনতা তাকে অবরুদ্ধ করার পর এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গত সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিয়ামতপুর থানাধীন মহিশকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসান স্বপন (১২৬৪, বিপি-৯৬১৫১৮৪৯৪৫) কনস্টেবল হিসেবে নিয়ামতপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়ামতপুর কলেজ সংলগ্ন মহিশকুড়ি এলাকার মৃত পলাশের স্ত্রী মোছাঃ নার্গিস খাতুন একজন চিহ্নিত হিরোইন ব্যবসায়ী। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কনস্টেবল মেহেদী ওই নারী মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে যান এবং তাকে কুপ্রস্তাব দেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ঘিরে ফেলেন। পরে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এর মাত্র দেড় ঘণ্টা পর, অর্থাৎ একই দিন বিকেল ৪টায় তাকে নিয়ামতপুর থানা থেকে সরিয়ে ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই পুলিশ চালকের বিরুদ্ধে আরও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ামতপুর বাজার এলাকার পালকি সিনেমা হলের পেছনের বাসিন্দা, মাদক ও দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোছাঃ মৌসুমি খাতুনের (পিতা-মুনছুর রহমান ওরফে মাইনুল) সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। মৌসুমির ভাই মোস্তাফিজুর রহমান সাগরও একজন মাদক ব্যবসায়ী।
অভিযোগ রয়েছে, কনস্টেবল মেহেদী নিজের স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে এই মৌসুমিকে নিজের বাসায় এনে রাত কাটাতেন। নিয়মিত তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন তিনি। এছাড়া এলাকার একাধিক মাদক কারবারির কাছ থেকেও তিনি নিয়মিত অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা-নিয়ামতপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, “ বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে এসপি স্যারের নির্দেশে তাকে ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি সামাজিক অবক্ষয়। আমরা এসব লোকদের পুলিশ বিভাগে রাখতে চাই না।” তবে ভাইরাল হওয়া কথোপকথনটি আগের ওসির সময়ের বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কনস্টেবল মেহেদী হাসান স্বপনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আশরাফুল ইসলামের নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।