মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জেরে প্রেমা (২২) নামের এক তরুণীকে ত্যাজ্য করেছেন তার বাবা অসিত দাস। রাগে, ক্ষোভে ও অভিমানে জীবিত মেয়ের প্রতীকী শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে আত্রাই নদীতে পিন্ড দান করেছেন পরিবার।
আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকায়, যা নিয়ে পুরো উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসিত কুমার দাসের দুই মেয়ের মধ্যে বড় প্রিয়াঙ্কা বিবাহিত এবং ছোট প্রেমা স্থানীয় সাতবাড়িয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই এলাকার মন্দির সংলগ্ন বসবাসকারী ও প্রসাদপুর বাজারের চা বিক্রেতা আজাদের ছেলে আরমানের সঙ্গে প্রেমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মধ্যেই পরিবারের সম্মতিতে নাটোরে প্রেমার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হয় এবং ৭ আগস্ট (শুক্রবার) দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বরের মা অসুস্থ হওয়ায় সেই বিয়ের তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। বিয়ের এমন প্রস্তুতি চলাকালীন গত ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান প্রেমা।
মেয়েটিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোনো উপায় না পেয়ে একপর্যায়ে থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয় পরিবার। তবে সেখান থেকেও কোনো সুরাহা মেলেনি। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ওই তরুণীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় অসিত দাস ও তার পরিবারকে।
পরিবারের দাবি, সামাজিক এই অবক্ষয় ও চরম মানহানির কারণে বাধ্য হয়ে গত ৪ আগস্ট দুপুরে মেয়ের প্রতীকী শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন বাবা অসিত দাস এবং আত্রাই নদীতে পিন্ড দান করা হয়।
প্রেমার কাকি কৃষ্ণা আক্ষেপ করে বলেন, “এটা এক ধরনের সামাজিক অবক্ষয়! কেউ যেন হিন্দু বা মুসলমান কোনো সম্প্রদায়েই এমন ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে না করে, এতে পরিবারকে মারাত্মক হেয়প্রতিপন্ন ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ও নিজের ভাগ্য নিয়ে চলে গেছে, এ নিয়ে আমাদের আর কোনো অভিযোগ নেই। তবে আমরা বর্তমানে বেশ হুমকির মুখে ও আতঙ্কে আছি।”
প্রেমার বোন প্রিয়াঙ্কা জানান, “আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়র রীতি অনুযায়ী তার প্রতীকী শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পিন্ড দান করা হয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি এবং আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় আমরা আইনগতভাবে এফিডেভিটের মাধ্যমে তাকে ত্যাজ্য করতে পারিনি। তবে অফিস খোলা মাত্রই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাজ্য করা হবে।”
প্রেমার মা কবিতা রানী বলেন, “ও গেছে ওর ভাগ্য নিয়ে। আমরা গরিব মানুষ, এসব বিষয় নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি বা আইনি পদক্ষেপে যেতে চাই না। প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় খুব চিন্তিত আছি।”
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, মেয়েকে ত্যাজ্য করার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো জিডি বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।