• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য: কৃষিমন্ত্রী রাজশাহীতে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সেবার মান বাড়াতে কমিশনারের নির্দেশনা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় নওগাঁর মান্দায় কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন আমির মাহফুজুর রহমান নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হলেন প্রভাষক আবু সাঈদ কুষ্টিয়ায় মৃত চেয়ারম্যানের নামে ১০৭ বস্তা চাল বরাদ্দ ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাণীনগরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু কৃষকের ঘরে আসছে নতুন সোনালী ফসল রাণীনগরে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে রাজমিস্ত্রি রুহুল আমিন হত্যার বিচারের দাবিতে লাশ সামনে রেখে মানববন্ধন।।

ইসলামপুরে যমুনার বুকে ভাসমান জীবন চরে চরে মানুষের কান্নার গল্প

দিনকাল বিডি ২৪ / ১৬৯ Time View
প্রকাশঃ বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মোঃ মনির হোসেন জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে বসবাসকারী মানুষের জীবন যেন রাষ্ট্রের চোখের আড়ালে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস। নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও তাদের দুর্দশা নিরসনে নেই কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চরাঞ্চলে হাজারো পরিবার বছরের পর বছর বসতভিটা ও আবাদি জমি হারাচ্ছে। যমুনার গতিপথ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। একাধিকবার ঘর স্থানান্তর এখানে নিত্যদিনের ঘটনা হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বাঁধ বা অবকাঠামো নির্মাণে তেমন অগ্রগতি নেই।চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও দিনমজুরি। জমি হারানোর ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পরিবারগুলো চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়ছে।

চরবাসী মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এই জীবনে শান্তি নাই। কখন নদী ঘর নিয়ে যাবে বলা যায় না। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারি না, অসুস্থ হলে নৌকায় করে শহরে নিতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। চর প্লাবিত হয়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অথচ এসব এলাকায় নেই স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগকালে ত্রাণ এলেও তা অপ্রতুল এবং অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন নারীরা। নিরাপদ প্রসব ও চিকিৎসাসেবার অভাবে মাতৃত্ব হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদ্যালয় সংকট ও যোগাযোগ সমস্যায় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চরবাসীর দাবি, শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এ অঞ্চলের চিত্র বদলানো সম্ভব। টেকসই ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ ছাড়া চরবাসীর এই সংগ্রামের অবসান হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category