এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: বিএনপি’র জন্য ত্যাগী এক যুবক, জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে দলের নিবেদিত প্রাণ এ পরিনত হওয়ার পর পদ-পদবীর লোভ সামাল দেয়া একটি নাম মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দলীয় অসহায়-অভাবী সাধারণ নেতা-কর্মীদের দিকে নিজের সাধ্যমতো হস্ত প্রসারিত করে যাওয়া ওই গিয়াস উদ্দিন শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে তার নিজের বাড়ি এলাকার বাজার মীরসরাই পৌরসভা সদর বাজারে থাকা ব্যবসা-বানিজ্য সহ প্রায় সব কিছু-ই হারিয়েছেন।
মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র তৎসময়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আহবায়ক কমিটির অন্যতম: সদস্য এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য পদে থেকে দলের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দলীয় কাজ করে যাওয়া এবং দলীয় সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিপদাপদে পাশে থাকায় ঈসান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের নজর পড়ায় তার ওপর নেমে আসে রাজনৈতিক অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো হাত। ফলে, তার সব ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ করে দেয়া হয়। এর ফলে, এক প্রকার জীবন বাঁচানো ও দায় হয়ে পড়ে। নানাবিধ: হুমকি-ধামকির ‘গড়গ’ চলতে থাকে তার ওপর।
ফলে, জীবন বাঁচানোর তাগিদে শহর কেন্দ্রীয় হয়ে বাধ্য হতে হয় তাকে। নিজ গ্রাম-এলাকা ছেড়ে শহরকেন্দ্রিক হয়ে পড়লে ও নিয়মিত দলীয় সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেন তিনি। বলতে গেলে দীর্ঘ ফেরারি জীবন অতিবাহিত করার প্রাক্কালে গত ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর আল্লাহর অশেষ কৃপায় মুক্ত বিহঙ্গের মতো নিজের এলাকা মীরসরাইতে আসা-যাওয়া শুরু করতে পেরে আল্লাহর দরবারে শেষ হীন শোকরিয়া আদায় করেন তিনি।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ভাই/বন্ধু হিসেবে চোখের অলক্ষ্যে থাকলে ও যৎসামান্য হলে ও যোগাযোগ ছিলো যথারীতি। এর-ই মাঝে ১৪ মে বুধবার আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে যায় মীরসরাইতে। কথপোকথনে উঠে আসে দীর্ঘদিন নিজের এলাকায় অনুপস্থিতির বিভিন্ন দিক্।
আলাপ’র ফাঁকে ভারাক্রান্ত হ্রদয়ে বিএনপি’র নিবেদিত প্রাণ গিয়াস উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, দল এখনো না আসলে ও কিন্তু একটা পজিশনে আসার পর ও দীর্ঘদিনের যাতনায় প্রায় নিঃশেষিত হয়ে যাওয়া বাঁকা পজিশন এখনো সোজা করতে পারিনি।
অবৈধ এবং অনৈতিক কোনো কর্মের মানসিকতা না থাকায় সামনে আগানো ও দায় হয়ে পড়েছে। তথাপি, জীবন বাঁচানোর পথ খোলসা করে দিয়েছেন বলে আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া।
এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি’র সাবেক এই নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, নোংরা রাজনীতির করাল গ্রাস অতিত সময়ে নিজের শরীর কে ষ্পর্ষ করতে দেয়নি ঠিক তেমনি এখনো দিচ্ছি না এবং আগামীতে ও দেবো না। দলকে ভালোবাসী, দলের জন্য প্রয়োজন মাফিক নিজের থেকে যতোদূর সম্ভবত করে যাবো তথাপি কারো কাছে মাথা নত করে নয়।