এম, এ কাশেম, জেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :: উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাতে বিএনপি’র এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারী আহত ও হয়েছেন।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বড় বেতুয়া সেলিমের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়।
নিহত বিএনপি কর্মীর নাম মোঃ শহীদ উল্লাহ্ (৩৪)। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি নেতা মোঃ সরোয়ার আলমগীরের অনুসারী ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
নিহত শহীদ ৫ আগস্টের পর থেকে বড় বেতুয়া এলাকায় আমান নামের এক বন্ধুর বাড়িতে থাকতেন। তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। তার শ্বশুর বাড়ি উপজেলার সেমুতাং গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন কালাপানি এলাকায় হলেও গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি’র আরেক পক্ষের লোকজন শহীদকে পরিকল্পিত ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছেন সবাই। এ ঘটনার পর অনেক বিএনপি-কর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে।
মূলত: উপজেলা বিএনপি’র নেতা মোঃ সরোয়ার আলমগীর ও আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিরোধ থাকায় তার ধারাবাহিকতায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই অনুমান করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এলাকায় বালুর মহাল দখল, চুরি ও বিভিন্ন ইস্যুতে উক্ত দু’গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। সেখানে শহীদ হস্তক্ষেপ করেন বলে ও সূত্র জানায়।
ফলে, বিবদমান দু’পক্ষই আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠে।
দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ বোরহান উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শহীদ বেতুয়া এলাকায় অবস্থান নিলে ক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাকে মারধর করে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, শহীদ বিএনপি’র একজন সক্রিয় কর্মী। এবং বিষয়টি দলীয় নয় বলে ও তিনি দাবি করেন।
দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ একরামুল হক বলেন, ‘নিহত শহীদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলমগীরের অনুসারী ছিলেন। প্রতিপক্ষের স্থানীয় নেতা আহমদ সাফার নের্তৃত্বে সায়েদ, রফিক, সোহেল, রুবেল সহ ২০-৩০ জন তাকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীর বলেন, গত ১৫-১৬ বছর যাদেরকে বিএনপি’র কোনো মিছিল-মিটিং এ দেখা যায়নি, তারা এখন দলের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম করছে। তারাই এ হত্যার সাথে জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
এবং তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি ও জানান।
ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র এক গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর নেয়া হচ্ছে বলে ও জানান দেন ওসি মাহববুল হক। ।