যশোর প্রতিনিধিঃ
যশোরের ঝিকরগাছায় পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ভূয়া নাটক সাজিয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ করায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারাচাঁদ মন্ডল ও কাদের মুন্সি ঝিকরগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের ছাফের মন্ডলের ছেলে। তারাচাঁদ মন্ডলের ছেলেদের মধ্যে (১) জিনাত মোড়ল (২) খোরশেদ মোড়ল (৩) মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ (৪) জাহেদ আলী (৫) রাজ্জাক আলী, মেয়ে (৬) শুকজান (৭) সকিনা (৮) রিজিয়া।
অপরদিকে মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীর ছেলে-মেয়ে মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ জয়নাল আবেদিন,মোছাঃ মনোয়ারা খাতুন, মনজুয়ারা খাতুন ও মাছুরা খাতুন। মাতা আমেনা খাতুন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলী দেশমাত্রিকার টানে ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শিমুলিয়া ইউনিয়নের বীর প্রতীক রকেট জলিলের সাথে ভারতে উড়িষ্যায় প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পানিসারা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন ও পৌর সদরের মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী অবগত আছেন।
মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রে মশিয়ার রহমান থাকলেও ডাক নাম মোরশেদ আলী আসেনি। ফলে, সম্প্রতি মতিয়ার রহমান নামের একজন অসাধু ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার সনদসহ সমদয় কাগজপত্রে মশিয়ার করে দেওয়ার জন্য ১লাখ ৫০হাজার টাকা দাবি করে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অসাধু ব্যক্তির দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিষয়টি তিনি স্থানীয় সংবাদকর্মী নামধারী আশরাফুজ্জামান বাবু ও আফজাল হোসেন চাঁদকে মিথ্যা তথ্য দিলে তারা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে সত্যতা যাচাই না করে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট মনগড়া খবর প্রকাশ করে। এবং একই সাথে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছে বলেও অভিযোগ ওই পরিবারের।
শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান কবির বলেন, কুলিয়া গ্রামের পাশেই আমার স্কুল। আমি যতটুকু জানি বা চিনি মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আলী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমরা স্ব -চোখে একদিন দেখেছি পানিসারা নবছদ্দিন মেম্বারের মিলের ওখানে স্বাধীনের পরে স্ব হস্তে তার রাখা অস্ত্র। তিনি যথাযথ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।যেটা আমার চোখে প্রমাণিত।
কুলিয়া গ্রামের ওলিয়ার রহমান ও আব্দুল গনি নামে বৃদ্ধ বলেন, মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভারতের উড়িষ্যার বিহারে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭১সালে পাক বাহিনীর সাথে সমুক্ষ্য যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন।
শিওরদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদ আমার প্রতিবেশী এবং খেলার সাথী। আমরা ১৯৭১সালে নির্বাচনে নৌকার নির্বাচন করি। প্রকৃত পক্ষে সে আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের বিহার চলে যায়। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে সে অংশ গ্রহণ করে। সে একজন মুক্তিযোদ্ধা।
এ ব্যাপারে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান ওরফে মোরশেদের পরিবার প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।