• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
রাজশাহীতে বন্যার্তদের পাশে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট রাজশাহী রেঞ্জে নওগাঁর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্মাননা নওগাঁর মান্দায় আইনজীবীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা, আদালতে মামলা রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ১২, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁর মহাদেবপুরে পাইলস অপারেশনে নারীর মৃত্যু: আল-মদিনা হাসপাতালের ওটি ও ডায়াগনস্টিক সিলগালা চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১ রাজশাহীতে সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা বদলগাছী প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পার্বতীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু পার্বতীপুরে র‌্যাবের অভিযানে ৯২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

নওগাঁয় এক ব্যবসায়ীর গোডাউন ভাংচুর করে মালামাল লুটপাটের অভিযোগ, প্রতিকার না পেয়ে হতাশ ভুক্তভোগী

দিনকাল বিডি ২৪ / ৪৬ Time View
প্রকাশঃ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় দলিলের হাতনকশার (দখল পজিশন) চৌহদ্দি ওভাররাইটিং করে এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের পাঁয়তারা, ভেকু (এস্কাভেটর) দিয়ে টিনশেড গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটসহ ইট মাটিচাপার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী চকউমেদ গ্রামের মফিজ উদ্দীনের ছেলে মো. আমিনুল হক বাদী হয়ে স্থানীয় বিজিবি সদস্য আব্দুল মান্নান ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য মোকলেছার রহমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, দেলুয়াবাড়ী মৌজার ৩১৩ নম্বর খতিয়ানের হিস্যা অনুযায়ী ১৩ আনা ৫ গণ্ডায় ১ একর ৩৪ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন রসিক প্রামাণিক ওরফে ইসমাইল। উক্ত খতিয়ানের ৭৫৯ নম্বর দাগের মোট ৫৩ শতক ধানী জমির ষোল আনা অংশের মালিকও ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১৫৩১৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তার বড় ছেলে রইচ উদ্দিন প্রামাণিককে উক্ত ৫৩ শতক জমি হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে রইচ উদ্দিন প্রামাণিক ২০০৮ সালের ১২ মে ৩৮৮১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তার ছোট ভাই লেলিন উদ্দিন প্রামাণিককে এবং ৩৮৮২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বোন রমিছা বিবিকে জমি হস্তান্তর করেন। ২০১৭ সালে স্থানীয় বিজিবি সদস্য আব্দুল মান্নান ৪৪৪৬ নম্বর দলিলে সাড়ে ১১ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর ২০২১ সালের ১৯ জুলাই ৫০৪১ নম্বর দলিলমূলে লেলিন উদ্দিন প্রামাণিকের কাছ থেকে ৭৫৯ নম্বর দাগের দক্ষিণাংশে পৌনে ১৩ শতক জমি ক্রয় করেন ভুক্তভোগী আমিনুল হক (যার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ১৪১৮)। জমিটি ক্রয়ের সময় নিচু ও গর্ত থাকায় আমিনুল হক সেখানে বিপুল টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেন এবং একটি টিনশেড গোডাউন ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিজিবি সদস্য আব্দুল মান্নান ও তার ভাই সাবেক ইউপি সদস্য মোকলেছার রহমান প্রতিপক্ষের যোগসাজশে দলিলের হাতনকশার (দখল পজিশন) চৌহদ্দিতে ওভাররাইটিং করে জালিয়াতির মাধ্যমে আমিনুল হকের জমি জবরদখল করার পাঁয়তারা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ আগস্ট সকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষরা ভেকু (এস্কাভেটর) দিয়ে আমিনুল হকের নির্মিত গোডাউনটি মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ ভাঙাড়ি মালামাল, মূল্যবান সামগ্রী এবং গচ্ছিত ইট মাটি চাপা দিয়ে রাখাসহ সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
ঘটনার দিন রাতেই মান্দা থানা চত্বরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিবাদীরা আইন নিজের হাতে না তোলার লিখিত মুচলেকা দিয়ে এলেও সেখান থেকে ফিরে এসে পুনরায় জমিতে ইট পুঁতে ও স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টা চালায়।
ঘটনার দিন রাতে থানা চত্বরে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিবাদীরা আইন নিজের হাতে না তোলার লিখিত মুচলেকা দেন। তবে থানা থেকে ফিরে পুনরায় জমিতে ইট পুঁতে দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক উপস্থিতিতে প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বালাম বই যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, বিবাদীদের দলিলের সঙ্গে মূল বালাম বইয়ের কোনো মিল নেই এবং মূল দলিলে ওভাররাইটিং ও তথ্য জালিয়াতি করা হয়েছে। তবে, বালাম বইয়ের সঙ্গে জাবেদা নকলের মিল রয়েছে।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় সালিশি বৈঠকের দিন নির্ধারিত হলেও অভিযুক্তদের অসহযোগিতায় তা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। গত সোমবার উভয় পক্ষের থানায় বসার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার বৈঠকের দিন ধার্য হলেও প্রতিপক্ষের লোকজন অনুপস্থিত থাকায় তা হয়নি। সর্বশেষ আজও (শনিবার) সালিশে বিবাদীরা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি সম্পূর্ণ অমীমাংসিত থেকে গেছে। বারবার তারিখ বদল ও প্রতিপক্ষের গড়িমসিতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিনুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। জমি নামজারি ও খাজনা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার পরও প্রভাবশালী বিজিবি সদস্য আব্দুল মান্নান ও তার ভাই মোকলেছার রহমান জালিয়াতি করে আমার ১২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করল। জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পরও তারা এখনো অধরা। আমি প্রশাসন ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আমার ক্ষয়ক্ষিতির বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের দাবি,দলিল ওভাররাইটিংয়ের বিষয়টি সঠিক নয়। ২০১৭ সালে স্থানীয় বিজিবি সদস্য আব্দুল মান্নান ৪৪৪৬ নম্বর দলিলে সাড়ে ১১ শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে আমিনুল জবরদখল করে টিনের ঘর নির্মাণ করেছিলেন। একাধিকবার বলার পরও তা না সরানোয় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আমিনুল পরবর্তী কবলাদার হওয়ায় কাগজপত্রের সঠিক হিসাব করলে তিনি সেখানে মাত্র ১ শতক জমি পেতে পারেন। এছাড়া ওসির বিরুদ্ধে প্রভাবিত হয়ে বিচারকের ভূমিকা পালন ও মামলার হুমকির অভিযোগ তুলে চরম বিব্রতবোধ করছেন বলে জানান তারা।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন ও বালাম বইয়ের অসামঞ্জস্যতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category