পোরশা(নওগাঁ)প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশায় বৃষ্টি ও উজানের ঢলে
নিতপুর এলাকার বিভিন্ন বীলের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি
পেয়েছে। এতে কয়েকশত হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। তবে
কৃষি বিভাগ বলছে ৫ হেক্টর জমির ধান সম্পুর্ণ তলিয়ে গেছে এবং ৩০
হেক্টর বোরো ধান আংশিক তলিয়ে গেছে। কষ্টের ফসল চোখের সামনে
তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ঋণের দায়
মেটাতে কোমর সমান পানিতে নেমে ধান আধাপাকা ধান কাটছে
তারা।
ফসল বাঁচাতে প্রতিদিনই তারা বাড়তি খরচ গুনে শ্রমিক নিয়ে ধান
কাটছেন। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কোথাও কোমর পানিতে নেমে ধান
কাটতে হচ্ছে তাদের। আবার যেসব ধান কাটা হচ্ছে সেসব ধান রোদের
অভাবে শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এমন অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির
শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের। নিতপুর গোপালগঞ্জের কৃষক মোকছেদুল,
বাংগাল পাড়ার বেলাল হোসেন, আবু তালেব, শাহাজাহান, দিয়াড়াপাড়ার
তফিজুল, জাহাঙ্গীর আলম সহ আাে কৃষকরা জানান, জৈষ্ঠ মাসের
শুরুতে পুনর্ভবা নদীতে পানি আসে। এর আগেই এই নদীর বীল এলাকার
সবধান কাটা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর বৈশাখের শুরুতেই আগাম
পানি চলে আসায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে
গেছে ধান। গত চারদিন ধরে নদীর পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন
করে জমিও তলিয়ে গেছে। তারা জানান, অধিকাংশ কৃষক ঋনের টাকা
নিয়ে জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ধানও বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু
ঢলের পানির কারণে সব হারাতে বসেছে কৃষকরা। সব বোরো চাষীদের
অবস্থা একই বলেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ বলেন,
বোরো জমিতে পানি প্রবেশ করে ৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। আর
৩০ হেক্টর জমির ধান আংশিক তলিয়ে গেছে। উজানের ঢল বেড়ে যাওয়ায়
পুনর্ভবা নদির পানি বেড়ে যায়। এতে নতুন করে আরও ধানি জমি তলিয়ে
যায়। তবে ৬০-৭০ ভাগ ধান পেকে যাওয়ায় লক্ষমাত্রার কোন হেরফের হবেনা
বলে তিনি জানান। ইতোমধ্যে কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেয়ার
পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। #