বাগেরহাট প্রতিনিধি ।।
বাগেরহাট জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অনিয়ম ও দূর্নিতীর খবর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমিটি গঠন করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নিবন্ধনকৃত মহিলা সমিতি গুলির কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্র্শনে জন্য মাঠে নামিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের । আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের একাধিক সুত্র জানায়, বাগেরহাট জেলায় ৫৭ টি মহিলা সংগঠন এককালিন অনুদান পেয়েছে । এদের মধ্যে অনেক সংগঠনের সাইনবোড নাই নাই বসার স্থান ।এক ব্যাক্তি একাধিক মহিলা সমিতি পরিচালনা করে আসছে বছরের পর বছর অনুদান গ্রহন করছে এসব সমিতির মাধ্যমে । এসব কারনে বাগেরহাট সদর উপজেলানির্বাহী অফিসার সরেজমিনে পরিদর্র্শনে জন্য মাঠে নামিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ।
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতি নিবন্ধন ও পরিচালনা নির্দেশিকা , ২০২১ এর পরিশিষ্ট-৪ এ নিবন্ধন ও পরিচালনা নিয়মাবলীর “ঞ” তে বলা হয়েছে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ বা নির্বাহী সদস্য পদে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত অন্য কোন সমিতি বা সংস্থার সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ বা নির্বাহী সদস্যের কোন পদ গ্রহন করতে পারবে না । এখানে বাগেরহাট সদর উপজেলার প্রচেষ্টা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি পদে রয়েছে রীতা রানী হালদার এনআইডিকাড অনুযায়ী তার বাড়ী পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া গ্রামে আর সম্পাদক হিসাবে রয়েছে কানন বালা সুতার । অন্যদিকে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ঈসিতা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি হিসাবে কানন বালা সুতার নাম আর সম্পাদক হিসাবে রয়েছে রিতা রানী হালদার । একটি নির্ভর যোগ্যসূত্র জানায়, এই সংগঠন দুটি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারি পতিত পবন রায় পরিচালনা করেন । ঈসিতা অফিস সহকারি পতিত পবন রায়ের মেয়ে তার নামেই এই প্রতিষ্ঠানটি । ২০১০ সাল থেকে পতিতি পবন রায় দুটি সংগঠন থেকে ৭০ হাজার টাকা অনুদান গ্রহন করে আসছে । রিতা রানী হালদার পতিত পবন রায়ের শাশুড়ীহয় বলে জানান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
বাগেরহাট সদর উপজেলা পর্যায়ের এক কর্মকর্তা আক্ষেপকরে বলেন, আমাদের কাছে যে নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে সকল মহিলা সমিতির মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকলেও খালিশপুর এলাকার ভানুমতি মহিলা সংস্থার কোন মোবাইল নম্বর দেওয়া নাই এ রহস্য বুঝতে পারলাম না । এলাকার এক নারী নেত্রী জানাযায় এটাও নাকী পতিত পবনের শালীর নামে করা ।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম জানান, যেসকল মহিলা সমিতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের অনুদানের জন্য আবেদন করেছেন সে সকল সমিতি গুলি আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করছি ।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার ৫৭ টি মহিলা সংগঠনকে এককালিন অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও ২০ টি চেক দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক বাকীদের সমিতি পরিদর্শন না করে চেক বিতরন না করার নির্দেশ দেন মহিলা বিষয়কের উপপরিচালককে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা সমিতির একাধীক কর্মকর্তারা ক্ষোভের সাথে বলেন আমরা যারা অনুদান পেয়েছি পচিশ হাজার টাকায় পাঁচশত টাকা, ত্রিশ হাজার টাকায় সাত শত টাকা ও যারা চল্লিশ হাজার টাকা পেয়েছে তারা একহাজার টাকা দিতে হয়েছে অফিস সহকারী পতিত পবন রায়কে ।
বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী পতিত পবনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাত, ক্ষমতার অপব্যবহার, সহকর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অন্যায়ের বিচার ও প্রতিকারের দাবিতে ওই কার্যালয়ের একাধিক কর্মী বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন । অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এক প্রশিক্ষক বলেন, পতিত পবন রায় একজন দূর্নীতি পরায়ন কর্মচারী । তিনি তিনটি মহিলা সমিতি পরিচালনা করেন শালী শাশুড়ীদের দ্বারা, নিজের মেয়ের নামে ও সমিতি করে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা অনুদান গ্রহন করছেন । সরকারের প্রশিক্ষনার্থীদের ভাতা ও সরকারি টাকা আত্মসাতের মত অপরাধের সাথে জড়িত এই অফিস সহকারী এমন দাবি করেন এই প্রশিক্ষক।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পতিত পবন রায়ের ০১৭ ১৯ ৮৩ ৪২ ৮০ মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় ।
বাগেরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে সরকারি অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও দূর্নিতীকথা ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক নাজমুন নাহারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন । #