নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ও কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দান সহায়তা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক মাদ্রাসার খাদেমকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. রহিদুল ইসলামসহ আরও তিনজন।
ভুক্তভোগী এনামুল হক প্রামানিক (৫৮), সফাপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত বাহার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রসাদপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মাদ্রাসার জন্য দান সহায়তা চেয়ে প্রসাদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম তাকে অপমান করে বলেন, “চাঁদাবাজি ও ভিক্ষা দেওয়া পছন্দ করি না।” এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার সময় দরজা বন্ধ করে চারজন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন এনামুল হক। তার সঙ্গে থাকা মাদ্রাসার কাগজপত্র, রশিদ বই ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় মান্দা থানায় এবং ইউএনওসহ একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ভূমি কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করব না। আপনারা যা খুশি করতে পারেন।”
মান্দা থানার ওসি মনসুর রহমান জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন,“বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসা অফিসে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মাসুদুর রহমান, হাফেজ আব্দুল মান্নান এবং ভুক্তভোগী এনামুল হক বক্তব্য দেন। তারা বলেন, “সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”