শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি !!
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত রোববার ১ জুন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউপি বিএনপি’র উদ্যোগে মাজিহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক দুর্বলতা, ইউপি বিএনপিতে আওয়ামী জাসদের অনুপ্রবেশ, বিএনপির নামে অনুপ্রবেশকারিদের চাঁদাবাজি, জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগ থাকায় স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি বলে জানা গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মিরপুর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাবু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কুর্শা ইউপি বিএনপি’র সভাপতি মকবুল হোসেন।
কুুর্শা বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ মে মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউপি বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু হানিফ, জোমারত আলী, কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি ওমর আলীর আপন ভাই ও স্থানীয় জাসদ নেতা আবদুল খালেক জাসদ-আওয়ামী লীগের লোকবল নিয়ে শোডাউন করে বিএনপিতে যোগদান করে। পরবর্তীতে এসব জাসদ-আওয়ামী লীগ নেতারা ইউনিয়ন বিএনপির চূড়ান্ত কমিটিতে শীর্ষস্থানীয় পদ বাগিয়ে নেয়। অন্যদিকে কুর্শা ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী ও বহু মিথ্যা মামলার নির্যাতিত আসামী কেউই এই কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। আবার যারা স্থান পেয়েছে তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এসব আওয়ামী লীগ কাম জাসদ থেকে আসা ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে অন্যের ভাড়াটিয়া হয়ে জমি দখল, চাঁদা আদায়, রয়েছে মারপিটের মতো গুরুতর অভিযোগ।
কুর্শা ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবদুল খালেক, আবু হানিফ, জোমারত আলী সহ অনেকেই মিরপুর উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী রব্বানের অনুসারী। যে কারনে তারা মিরপুর উপজেলার বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদকের প্রতি সন্তুষ্ঠ হয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অসহযোগিতা করে মিরপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতানকে অপমান ও ব্যর্থ প্রমানের চেষ্টা করেছে বলে জানা গেছে।
কুর্শা ইউনিয়ন বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, গত রোববার ১ জুন মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউপি বিএনপি’র উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা উপলক্ষ্যে কুর্শা ইউপি বিএনপি’র সভাপতি মকবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে ফান্ড কালেকশন করা হয়। সেই ফান্ডের টাকা দিয়ে কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও আওয়ামী কোটায় নির্বাচিত কুর্শা ইউপি’র ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাসান আলীকে দিয়ে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দোয়া মাহফিলের আপ্যায়ন ব্যবস্থাপনা, তবারক রান্না এবং সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে অনুষ্ঠান শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই অনেকেই অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন এবং তারা এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকবল নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কুর্শা ইউপি বিএনি’র উদ্যোগে অয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতি, অসদাচারণ, বেহাল অবস্থা দেখে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান বলেন- “আপনাদের উন্নয়ন, আপনাদের দুয়ারে পৌছায়ে দিয়েছেন অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, তার সাথে কি আপনারা দুই নাম্বারি করলেন না ? আজকে যদি এখানে পাঁচশ লোক হতো, তার কাছে বুক ফুলায়ে বলতে পারতেন, আমার জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীতে পাঁচ লোক উপহার দিয়েছি। আপনারা আজ এই মহতি ও রুহের মাগফেরাত অনুষ্ঠানে হাজির হলেন না, বড় দুঃখ পেয়ে গেলাম এই কুর্শা থেকে। যদি কারো প্রতি রাগ থাকে কিংবা ওমুকের জন্য লোক আসে নাই, আপনারা বলেন, আমি সেই লোককে মিটিং থেকে বের করে দেবো। দাঁড়ায়ে বুকের পাটা নিয়ে কথা বলতে হবে, তবুও দলের ক্ষতি করবেন না। আজকে তওবা করে বাড়িতে যান, আমি অনুরোধ করে দিলাম”। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক বাবু, কুর্শা ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম, কুর্শা ইউপি বিএনপি যুবদলের সাবেক সভাপতি মিলনুজ্জামান মিলন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।