মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী :
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগমের
বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর
পূর্বের কর্মস্থল ও রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে একটি মহল
তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকের
একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় রাকাবের সাধারণ
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদা বেগমের পূর্বের
কর্মস্থল অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-কে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা
পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। সূত্র জানায়, অগ্রণী
ব্যাংকে তিনি দায়িত্বে না থাকার পরেও ব্যাংকের সূত্র ধরে পূর্বে
তার নামে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় আদালত তাকে তিন
মাসের সাজা প্রদান করলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি
পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের জন্য মামলার স্থগিতাদেশ দেন।
বর্তমানে মামলাটি শুনানির জন্য উচ্চ আদালতের আদেশের অপেক্ষায়
রয়েছে। এমতাবস্থায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই একটি
পক্ষ ভুল তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন
পরিসরে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রাকাবের একাধিক কর্মকর্তার দাবি,
একটি স্বার্থান্বেষী মহল অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে এই
নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।
ওয়াহিদা বেগমের বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থিদের পুনর্বাসনের যে
অভিযোগ আনা হয়েছে, তাকে মনগড়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে
দিয়েছেন রাকাবের কর্মকর্তারা। ব্যাংকের একাধিক ক্লিন
ইমেজের কর্মকর্তা জানান, এমডি হিসেবে যোগদানের পর
থেকে তিনি সুনামের সাথে কাজ করছেন। তাকে সামাজিকভাবে
হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে, রাকাব এমডি হিসেবে ওয়াহিদা বেগমের নিয়োগ
চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ নভেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন
দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি
বিভাগের (বিআরপিডি) ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সার্কুলার
অনুযায়ী তার নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তিন সপ্তাহের
মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, গত ২২ অক্টোবর রাকাবের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল
মালেক এমডির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ
দেন। আব্দুল মালেকের অভিযোগের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক
প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানান, এমন
অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সরকার ব্যক্তিগত আক্রমণ বা
ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে সময় নষ্ট করে না।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, রাকাবের
এমডিকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে
উল্লেখ করে যে ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্যিই দুঃখজনক।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি পেয়ে রাকাবে যোগদানের পর তার
বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি বা অনিয়মের অভিযোগ
আমাদের কাছে আসেনি। অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের একজন ডিজিএম জানান,
সেখানে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে
ওয়াহিদা বেগম অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের
(রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেন, আমরা সর্বদা
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটি পক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছে
এবং আদালত একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। আমিও আইনি
প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, খুব শীঘ্রই এর
একটি সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে।